ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল
ক্রীড়া ডেস্ক :
একদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত নৈপুণ্য, অন্যদিকে প্রায় আড়াই বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন—দুইয়ের মেলবন্ধনে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শুধু জয়ই নয়, দারুণ ছন্দময় ফুটবল উপহার দিয়ে নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছে সেলেসাওরা।
মায়ামি স্টেডিয়ামে ৬৪ হাজারেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় তারা। ডিফেন্ডার ম্যাককেনার ভুল পাস থেকে বল দখল করেন তরুণ মিডফিল্ডার রায়ান। তাঁর নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে ডান পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
এই গোলের মাধ্যমে একটি বিশেষ কীর্তিও গড়েন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ২০০২ বিশ্বকাপের পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের টানা তিন ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। ২১ মিনিটে আরও একবার বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
তবে হতাশ হননি ভিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। চলতি আসরে এটি ছিল তাঁর চতুর্থ গোল। প্রথমার্ধ শেষেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে সেলেসাওরা। ৫০ মিনিটে স্কটল্যান্ডের স্কট ম্যাকটমিনির শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। দুই মিনিট পর ভিনিসিয়ুস হ্যাটট্রিকের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করলেও ব্রাজিলের তৃতীয় গোল আসতে বেশি সময় লাগেনি।
ম্যাচের ৫৯ মিনিটে কাসেমিরোর পাস থেকে ব্রুনো গিমারেস হয়ে বল পৌঁছে যায় মাথিয়াস কুনিয়ার কাছে। ডান দিক দিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। আগের ম্যাচেও জোড়া গোল করা কুনিয়া এবারও গোলের দেখা পেয়ে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন।
এরপর আসে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর চোটে আক্রান্ত হওয়ার পর দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ৩২ মাস পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে ফেরেন তিনি। গ্যালারিজুড়ে তখন শুধু একটাই ধ্বনি—‘নেইমার, নেইমার’।
যদিও মাঠে নেমে গোল বা অ্যাসিস্টের দেখা পাননি এই মহাতারকা, তবুও তাঁর প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন নেইমারও।
এই জয়ের ফলে ‘সি’ গ্রুপে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ফর্ম, কুনিয়ার ধারাবাহিকতা এবং নেইমারের প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নতুন করে শক্ত বার্তা দিল সেলেসাওরা।




