শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরছে না। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (MoU) সংশোধন কিংবা নতুন চুক্তি—দুই পথেই রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। ফলে শিগগিরই শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান শ্রমচুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। এর আগেই নতুন চুক্তি বা সংশোধন না হলে পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ। এই কারণে দ্রুত কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান MoU সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত শ্রমবাজার চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং কর্মী পাঠানোর পথ সহজ করার চেষ্টা চলছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, মধ্যস্বত্বভোগীমুক্ত এবং কম খরচে সম্পন্ন করা।
অন্যদিকে মালয়েশিয়া পক্ষ শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও মানবিকতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের শোষণ, অনিয়ম বা অমানবিক আচরণ গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি নিয়োগ ব্যবস্থাকে ন্যায্য ও স্বচ্ছ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
দুই দেশই বর্তমানে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (JWG) গঠন করেছে। এই গ্রুপ বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে এবং নতুন চুক্তির কাঠামো তৈরির কাজ করছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বড় পরিসরে শ্রমিক নিয়োগ শুরু করা সম্ভব হবে না বলে জানা গেছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অতীতেও একাধিকবার বন্ধ ও চালু হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রথম বড় ধাক্কা আসে, এরপর ২০১৬ সালে পুনরায় শ্রমবাজার চালু হয়। ২০১৮ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালে আবার চালু হলেও ২০২৪ সালের মে মাসে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এই ধারাবাহিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত খরচ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত খরচের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া চাকরির অফার এবং নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, নতুন চুক্তি করতে গেলে দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে বিদ্যমান MoU সংশোধন করা গেলে তুলনামূলক দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দেওয়া সম্ভব। তাদের মতে, শুধু বাজার খোলা নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। প্রথমত, MoU সংশোধন করে সীমিত সময়ের মধ্যে শ্রমবাজার চালু করা। দ্বিতীয়ত, নতুন চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী কাঠামো তৈরি করা। তৃতীয়ত, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমবাজার বন্ধ থাকা।
সব মিলিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতা ছাড়া দ্রুত সমাধান আসার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্টরা মনে




