ময়মনসিংহে রাজনৈতিক ও পূর্বশত্রুতার জেরে বিএনপি কর্মী খুন, ৪ জন গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
মহানগরের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে রানা মিয়া (৩৩) নামে এক বিএনপি কর্মীকে লোহার রড ও শাবল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রানা স্থানীয় বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং তিনি শরাফ উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের ভাই মোফাজ্জল হোসেন বুধবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০–১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি মো. মফিদুল ইসলাম মাস্টার (৫৫), যিনি ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য। এছাড়া ৩ নম্বর আসামি তার ছেলে মো. ফাহিম হাসান (২৫)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত জাতীয় নির্বাচনের সময় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর সোমবার একটি তুচ্ছ বিষয়—তরল পানীয় খাওয়া নিয়ে—দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। সেই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি।
সংঘর্ষ চলাকালে রানা মিয়া ঝগড়া থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে লক্ষ্য করে লোহার রড ও শাবল দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় আরও ৫–৬ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, নিহত রানা গত নির্বাচনে তার পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন এবং তিনি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন।
অন্যদিকে, মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুল দাবি করেছেন, ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়; বরং এটি পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত বিরোধের ফল।
পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারভুক্ত ৪ জন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




