এমবাপ্পের জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে ফ্রান্সের দুর্দান্ত জয়
ক্রীড়া ডেস্ক :
ফরাসি রক্ষণভাগকে প্রথমার্ধে দারুণভাবে চাপে ফেলে সেনেগাল। তাদের সংগঠিত প্রেসিং আর আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচের শুরুতে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে ফ্রান্স। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট—আর সেই পরিবর্তনের নায়ক হয়ে ওঠেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে ৩–১ ব্যবধানে জয় এনে দেন।
নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে পাপে থিয়াওয়ের সেনেগাল ৪-৪-২ ফরমেশনে দারুণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তাদের উচ্চচাপের প্রেসিংয়ের সামনে ফ্রান্সের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। প্রথম ৪৫ মিনিটে ফ্রান্স একটিও শট নিতে পারেনি—১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রথমার্ধে তাদের সবচেয়ে খারাপ পরিসংখ্যান এটি।
অন্যদিকে সেনেগাল একাধিক সুযোগ তৈরি করে। ২৫ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যোগ করা সময়ের দিকে সাদিও মানের দারুণ পাসে ইসমাইলা সার মাত্র আট গজ দূর থেকে সহজ সুযোগ মিস করেন, বল বার দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলায় ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ের দেশম মাইকেল ওলিসেকে ডান উইং থেকে সরিয়ে মাঝমাঠে ফ্রি-রোলে খেলান, যা ম্যাচের গতি পাল্টে দেয়। এই পরিবর্তনের ফল আসে ৬৬ মিনিটে। ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে প্রথম টাচে কোনাকুনি শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক এমবাপ্পে।
এই গোলের মাধ্যমে এমবাপ্পে ইতিহাসেও জায়গা করে নেন—২০০৬ সালের ফাইনালে জিনেদিন জিদানের পর তিনি প্রথম ফরাসি অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
গোল হজমের পর সেনেগাল আক্রমণে আরও তীব্রতা আনে। তবে ৬৮ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, যা তাদের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দেয়।
৮১ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাডলি বারকোলা। মাত্র এক মিনিটের মাথায় আদ্রিয়েন রাবিওর পাস থেকে দারুণ এক চিপ শটে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি, সেনেগালের রক্ষণকে হতবাক করে দেন।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা চরমে ওঠে। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে রাবিওর ভুলে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেনেগালের ১৮ বছর বয়সী ইব্রাহিম এমবায়ে ব্যবধান কমান। তবে পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে আবারও জ্বলে ওঠেন এমবাপ্পে। ওলিসের পাস থেকে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি, যা ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করে।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে এমবাপ্পে একাধিক রেকর্ড গড়েন। তিনি অলিভিয়ে জিরুকে টপকে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ৫৮ গোল নিয়ে। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ গোল করে জুস্ত ফঁতেঁকে ছাড়িয়ে যান তিনি। এখন আর মাত্র তিনটি গোল করলেই জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে আসবেন এই ফরাসি তারকা।




