বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতিতে জয়, আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত ব্রাজিল
ক্রীড়া ডেক্স :
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মূল আসরে নামার বার্তা দিয়েছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে মিসরকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে ব্রাজিল। অষ্টম মিনিটে প্রতিপক্ষের একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস। মিসরের মিডফিল্ডার মোহানাদ লাশিনের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি। দ্রুত পাওয়া এই গোল ব্রাজিলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি সেলেসাওরা। চার মিনিট পরই রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরে মিসর। ব্রাজিল অধিনায়ক মারকুইনিওসের ভুল পাস কেটে নিয়ে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে পরাস্ত করেন মোস্তফা জিকো। হঠাৎ পাওয়া এই গোলে ম্যাচে ফিরে আসে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
সমতায় ফেরার পর ব্রাজিল আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও ইগর থিয়াগো একের পর এক আক্রমণ সাজান। কিন্তু মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর অসাধারণ কয়েকটি সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন। প্রথমার্ধে ব্রাজিল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ কার্লো আনচেলত্তি একসঙ্গে আটজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন। তার এই কৌশলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বদলি হিসেবে মাঠে নামা তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে রাফিনিয়ার তৈরি করা সুযোগ থেকে সহজ ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ১৯ বছর বয়সী এন্দ্রিক। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা কয়েক ম্যাচ গোল না পাওয়ার পর এই গোল তার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। রাফিনিয়া একাধিক ড্রিবল ও সুযোগ সৃষ্টি করে নজর কাড়েন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাথিউস কুনহা ও এন্দ্রিকও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রাখেন। ব্রাজিলের বেঞ্চ শক্তি ও স্কোয়াডের গভীরতাও এই ম্যাচে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের শারীরিক অবস্থা। তবে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে আনচেলত্তির দল দেখিয়েছে, নেইমার মাঠে না থাকলেও তাদের আক্রমণভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী এবং কার্যকর। তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া দলটি যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। অন্যদিকে মিসর ১৫ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে। বিশ্বকাপের আগে শেষ পরীক্ষায় জয় পাওয়ায় ব্রাজিল শিবিরে এখন আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। সমর্থকদের বিশ্বাস, এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নামবে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি




