কেইনের জোড়া গোল, রাশফোর্ডের শেষ আঘাত—ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু ইংল্যান্ডের
ক্রীড়া ডেস্ক :
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিল ইংল্যান্ড। ডালাসে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছে কোচ টমাস টুখেলের দল। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, পেনাল্টি নাটক এবং ছয় গোলের এই ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল উত্তেজনার ছড়াছড়ি।
ম্যাচের নবম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। ননি মাদুয়েকেকে বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি পায় তারা। প্রথম শটটি ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ ঠেকিয়ে দিলেও ডিফেন্ডার ইয়োসকো ভার্দিওল আগেভাগেই বক্সে ঢুকে পড়ায় পুনরায় পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তার গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
পিছিয়ে পড়ার পর পাল্টা আক্রমণে তৎপর হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। ৩৬ মিনিটে পেতার সুচিচের কাটব্যাক থেকে মার্টিন বাতুরিনা দুর্দান্ত এক শটে সমতায় ফেরান দলকে। তবে বিরতির আগে আবারও এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪২ মিনিটে ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কেইন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আবারও সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের বাড়ানো বল থেকে গোল করেন পেতার মুসা। ফলে ২-২ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আসা দীর্ঘ পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন জুড বেলিংহাম। তার গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
এরপর একের পর এক আক্রমণে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে টুখেলের শিষ্যরা। ৫৫ মিনিটে ও’রেইলি ও অ্যান্থনি গর্ডনের নিশ্চিত দুটি গোলের সুযোগ রুখে দিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন লিভাকোভিচ। তবে ক্রমাগত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হয়নি ক্রোয়াটদের।
৭২ মিনিটে কৌশলগত পরিবর্তন এনে রাইস, মাদুয়েকে ও গর্ডনকে তুলে মাঠে নামান মরগান রজার্স, বুকায়ো সাকা ও মার্কাস রাশফোর্ডকে। টুখেলের এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে সাকার দারুণ পাস পেয়ে বক্সের ভেতরে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যান রাশফোর্ড। এরপর নিখুঁত বাঁকানো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে ইংল্যান্ডের চতুর্থ গোলটি করেন তিনি। সেই গোলেই ক্রোয়েশিয়ার প্রত্যাবর্তনের সব আশা শেষ হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স টমাস টুখেলকে যেমন স্বস্তি দেবে, তেমনি বিশ্বকাপের অন্য ফেবারিটদের জন্যও একটি শক্ত বার্তা হয়ে থাকবে।




