তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচের নায়ক ছিলেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, যিনি জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেষ্টা করে। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা আটকে দিলে সম্ভাবনাময় সুযোগ নষ্ট হয়। তবে দুই মিনিট পরই কাঙ্ক্ষিত গোল পায় বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে মোরছালিনের নিখুঁত ক্রসে হেড করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় সান মারিনো। ৩১তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বেরার্দির কাটব্যাক থেকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নেন নিকোলাস জিয়াকোপেত্তি। তার শটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সাদ উদ্দিনের সামনে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ এলেও তিনি তা কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে বিরতিতে যায় দুই দল ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ পরিবর্তন এনে দলে নতুন গতি সঞ্চারের চেষ্টা করেন। মাঠে নামেন সমিত সোম, জায়ান আহমেদসহ কয়েকজন বদলি খেলোয়াড়। ৪৮তম মিনিটে হামজা চৌধুরীর দারুণ পাস থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে সোহেল রানা গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর সাদ উদ্দিন ও ফাহিমের কয়েকটি আক্রমণও লক্ষ্যে পৌঁছায়নি।
ম্যাচের ৬১তম মিনিটে সান মারিনোর বিপজ্জনক ফ্রি-কিক দুর্দান্ত দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মিতুল মারমা। পরে বদলি হিসেবে নামা বিশ্বনাথ ঘোষ গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি।
তবে ম্যাচের শেষদিকে এসে বদলে যায় দৃশ্যপট। ৮৬তম মিনিটে হামজা চৌধুরীর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে সৃষ্ট সুযোগে বিশ্বনাথ ঘোষের সাইড ভলি থেকে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন তপু বর্মণ। নিজের দ্বিতীয় গোল করার পর উচ্ছ্বাসে জার্সি খুলে উদযাপন করেন তিনি। গ্যালারিতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও আনন্দে মেতে ওঠেন।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ইউরোপের মাটিতে এই জয় বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানো সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তপুর জোড়া গোল এবং হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বে দলের লড়াকু পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।




