মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ২০ কোটি টাকার এফডিআর উধাও, ক্রীড়াঙ্গনে নতুন বিতর্ক
ক্রীড়া ডেস্ক:
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নামে সোনালী ব্যাংকে রাখা ২০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ফেরত নেওয়ার ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও রহস্য। দীর্ঘদিন ধরে এফডিআর থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ বন্ধ থাকার কারণ জানতে গিয়ে অবশেষে জানা যায়, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকেই ওই অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল এবং ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় ১০ কোটি টাকা করে মোট ২০ কোটি টাকার এফডিআর করা হয়েছিল। সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাখায় রাখা এই আমানতের লভ্যাংশ দিয়েই বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। প্রতি চার মাস অন্তর প্রায় ১২ লাখ টাকা করে সংস্থার গ্রিন রোড শাখার হিসাবে জমা হতো।
তবে গত সেপ্টেম্বর থেকে হঠাৎ করেই লভ্যাংশ জমা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা আক্তার নেলী ব্যাংকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাননি। এমনকি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েও হিসাব বিবরণী সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে ব্যাংক সূত্রে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এফডিআরের পুরো ২০ কোটি টাকা ফেরত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি বরাদ্দের অর্থ এভাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে না জানিয়ে ফিরিয়ে নেওয়া কতটা যৌক্তিক।
ফিরোজা আক্তার নেলী বলেন, “লভ্যাংশ বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেছি। পরে ব্যাংক থেকে জানানো হয়, বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটিতে অস্বচ্ছতা ছিল।”
এদিকে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো যখন অর্থ সংকটে ভুগছে, তখন মহিলা ক্রীড়া সংস্থার এই এফডিআর প্রত্যাহারের ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে নেওয়া সরকারি উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।




