মুসলিম খেলোয়াড়দের সম্মান জানিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারে পরিবর্তন আনল ফিফা
ক্রীড়া ডেস্ক:
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মুসলিম খেলোয়াড়দের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার প্রদানের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে কোনো মুসলিম খেলোয়াড় ম্যাচসেরা নির্বাচিত হলে তাঁকে দেওয়া ট্রফি ও আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনে অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করা হবে না।
বিশ্বকাপের ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারটির পৃষ্ঠপোষকতা করছে জনপ্রিয় বিয়ার ব্র্যান্ড মিশেলোব আল্ট্রা। তবে ইসলাম ধর্মে মদ্যপ পানীয় নিষিদ্ধ হওয়ায় মুসলিম ফুটবলারদের ক্ষেত্রে স্পনসরের লোগো সরিয়ে বিশেষ ট্রফি প্রদান করা হচ্ছে। সেই ট্রফিতে শুধুমাত্র ‘দ্য সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ শিরোনাম এবং বিশ্বকাপের নিজস্ব ভিজ্যুয়াল পরিচিতি রাখা হচ্ছে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরক্কোর মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের দ্রুততম গোল করে ম্যাচসেরা হওয়ার পর লোগোবিহীন ট্রফি গ্রহণ করেন। এরপর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
শুধু সাইবারিই নন, একই ধরনের ট্রফি পেয়েছেন মিসরের ইমাম আশুর, জর্ডানের আলি অলওয়ান, ইরানের রামিন রেজাইয়ান, কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা এবং আইভরি কোস্টের ইয়ান দিয়োমান্দে। তাঁদের সবার ক্ষেত্রেই ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফিফার এক মুখপাত্র স্পোর্টসবাইবেলকে জানিয়েছেন, নির্বাচিত খেলোয়াড়ের অনুরোধ অনুযায়ী লোগোবিহীন ট্রফি ও পটভূমি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে শুধু মুসলিম খেলোয়াড়ই নয়, অন্য ধর্মের কোনো খেলোয়াড়ও যদি অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে না চান, তাহলে তিনিও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
এর আগেও ফিফা একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে মরক্কান তারকা আশরাফ হাকিমি ধর্মীয় কারণে ব্র্যান্ডবিহীন ম্যাচসেরার ট্রফি গ্রহণ করেছিলেন। একই সময়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ব্রাজিলিয়ান প্রতিভাবান ফুটবলার এস্তেভাওকেও স্পনসরের লোগো ছাড়া ট্রফি দেওয়া হয়েছিল।
অ্যালকোহল স্পনসরশিপ নিয়ে বিতর্ক ফুটবলে নতুন নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে মিসরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে প্রচলিত ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণে আপত্তি জানিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই খেলোয়াড়দের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে ফুটবল প্রশাসন।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে মুসলিম খেলোয়াড়দের বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে ফিফার এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, এটি খেলাধুলায় বৈচিত্র্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।




