একই আসরে চার পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়লেন বৈভব সূর্যবংশী
ডেস্ক রিপোর্ট :
আইপিএলের ফাইনালে খেলেননি, দলও শিরোপা জিততে পারেনি। তবুও টুর্নামেন্ট শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতেছেন অরেঞ্জ ক্যাপ, সর্বোচ্চ ছক্কার পুরস্কার, মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (এমভিপি) এবং ইমার্জিং প্লেয়ার অব দ্য সিজনের মতো মর্যাদাপূর্ণ চারটি পুরস্কার।
রোববার আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইপিএলের ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তবে ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন বৈভব সূর্যবংশী। একের পর এক পুরস্কার গ্রহণের জন্য বারবার মঞ্চে উঠতে হয় এই তরুণ ক্রিকেটারকে।
পুরো মৌসুমে ১৬ ইনিংসে ব্যাট করে ৪৮.৫০ গড়ে এবং ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান সংগ্রহ করেন বৈভব। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে তিনি অরেঞ্জ ক্যাপ জেতার পাশাপাশি ১০ লাখ রুপি পুরস্কার পান।
শুধু রানেই নয়, ছক্কা হাঁকানোর ক্ষেত্রেও ছিলেন সবার শীর্ষে। পুরো আসরে ৭২টি ছক্কা মেরে আইপিএলের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। এর জন্য ‘মোস্ট সিক্সেস’ পুরস্কার ও আরও ১০ লাখ রুপি অর্জন করেন। সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একটি বিলাসবহুল গাড়িও।
এছাড়া টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে ৪৩৬.৫০ পয়েন্ট নিয়ে ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ নির্বাচিত হন বৈভব। এই অর্জনের জন্য তিনি পান ১৫ লাখ রুপি। একই সঙ্গে ‘ইমার্জিং প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ নির্বাচিত হয়ে আরও ১০ লাখ রুপি পুরস্কার লাভ করেন।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আইপিএলের ১৯ বছরের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একই মৌসুমে ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ এবং ‘ইমার্জিং প্লেয়ার অব দ্য সিজন’—দুটি পুরস্কার একসঙ্গে জয়ের বিরল কীর্তি গড়েছেন বৈভব সূর্যবংশী।
পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বৈভব বলেন, “এটি অবশ্যই গর্বের মুহূর্ত। আগামী মৌসুমেও আরও ভালো করার চেষ্টা করব। আমি সব সময় নিজের খেলায় বিশ্বাস রাখি। বল যদি মারার মতো জায়গায় থাকে, তাহলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শট খেলি।”
মৌসুম থেকে পাওয়া শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, “চাপের মধ্যে কীভাবে খেলতে হয় এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়, সেটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। প্রতিটি ম্যাচ এক রকম হয় না। দলের প্রয়োজন ও ম্যাচের অবস্থা বুঝে ব্যাট করতে হয়। পাশাপাশি ফিটনেস নিয়েও আরও কাজ করতে হবে, কারণ দীর্ঘ সময় ভালো খেলতে হলে চোটমুক্ত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
আইপিএলের এবারের আসরে শিরোপা না জিতেও ব্যক্তিগত সাফল্যে ইতিহাস গড়ে বৈভব সূর্যবংশী প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা ও ধারাবাহিকতা থাকলে একজন খেলোয়াড় পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় তারকায় পরিণত হতে পারেন।




