মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, পাথর লোড-আনলোড বন্ধ
শেরপুর প্রতিনিধি :
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন লোড-আনলোড শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় ভারত ও ভুটান থেকে আমদানি করা পাথর লোড-আনলোড কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমানে তারা প্রতি সিএফটি পাথর গাড়িতে তুলতে ৩ টাকা ৩০ পয়সা, প্রতি টন পাথর আনলোডে ৩১ টাকা এবং ডাম্পার গাড়ি থেকে পাথর নামাতে ২০০ টাকা পারিশ্রমিক পান। তারা সিএফটিপ্রতি আরও ৭০ পয়সা, টনপ্রতি আরও ১৯ টাকা এবং ডাম্পার আনলোডের মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। বন্দরে প্রায় ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন।
এদিকে প্রশাসনের উদ্যোগে আমদানি-রপ্তানিকারক ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা সফল হয়নি। বৈঠকের একপর্যায়ে উত্তেজনা ও বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হলে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নাকুগাঁও লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল ছামাদ অভিযোগ করেন, বৈঠকে কিছু আমদানিকারক শ্রমিকদের ‘চাঁদাবাজ’ বলে মন্তব্য করায় পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আলোচনা ভেঙে যায়। তিনি বলেন, একটি সিন্ডিকেটের হাতে স্থলবন্দর জিম্মি হয়ে আছে এবং শ্রমিকরা এ সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান চান।
অন্যদিকে নাকুগাঁও আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, শ্রমিকদের দাবি সবসময় সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। তবে এবার যে হারে মজুরি বৃদ্ধির দাবি করা হয়েছে, তা অযৌক্তিক। তার দাবি, দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মজুরি দেওয়া হচ্ছে। কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে সরকারের রাজস্ব আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় নাকুগাঁও স্থলবন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং পাথর আমদানি-সংক্রান্ত ব্যবসা বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়েছে।




