মুহাম্মদ ইউনূসের ধোঁকায় পড়েছে সবাই
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের সাবেক কয়েকজন উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিল না। তার দাবি, বিষয়টি মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি আরও মন্তব্য করেন, বাধ্যবাধকতা না থাকলে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া অধিকতর সমীচীন হতো।
এদিকে সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও পূর্বে দাবি করেছিলেন যে চুক্তি প্রক্রিয়ায় তাকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। অন্যদিকে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন। এসব বক্তব্য সামনে আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে টিকাদান কর্মসূচি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, টিকা সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। ইউনিসেফের দাবি, টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কারণে সময়মতো টিকা সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জুলাই আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ও তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের যথাযথভাবে মূলধারার শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।
এছাড়া নির্বাচন আয়োজন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক সম্পর্ক নিয়েও অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সমালোচকরা দাবি করছেন, সরকার মেয়াদের শেষ দিকে এসে দেশের বিভিন্ন খাতে সংকট রেখে গেছে। তবে সরকারের সমর্থকরা বলছেন, একটি অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করে তারা প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেছে।
সামগ্রিকভাবে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য সামনে আসার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: কালেরকন্ঠ




