ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর

মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রণক্ষেত্র ভৈরব, সংঘর্ষে মহাসড়ক অচল; আহত অর্ধশতাধিক

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। বুধবার (১০ জুন) রাত সোয়া ৮টার দিকে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হলে কয়েক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। রাত ১১টা পর্যন্ত যান চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ, এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)সহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৈরব মাইক্রোস্ট্যান্ড পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বর্তমানে স্ট্যান্ডটির নেতৃত্বে রয়েছেন পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সিয়াম। সম্প্রতি ভৈরবপুর এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি তাদের পছন্দের একজনকে চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান। সেই দাবি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সন্ধ্যার পর ভৈরবপুর এলাকার কিছু লোক মাইক্রোস্ট্যান্ডে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে কমলপুর এলাকার লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়ক এলাকায়। সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারীরা দা-বল্লম, দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল ব্যবহার করে।
সংঘর্ষ শুরুর কিছু সময় পর এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। অন্ধকারের সুযোগে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টর্চলাইট ব্যবহার করে উভয় পক্ষ হামলা ও পাল্টা হামলা চালায়।
সংঘর্ষের ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এক প্রান্তে যানজট নরসিংদীর নারায়ণপুর পর্যন্ত এবং অন্য প্রান্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
এদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, “মহাসড়কে সংঘর্ষ হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।”
উল্লেখ্য, মাত্র ছয় দিন আগেও ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে সাড়ে চার ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ওই ঘটনায় ছয় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।