রূপগঞ্জে ফল উৎসবে হামলার তাণ্ডব: দুই দফায় মঞ্চ ভাঙচুর, রক্তাক্ত এনসিপি কর্মীরা
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আয়োজিত ফল উৎসব ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চ ও প্যান্ডেলে দুই দফা হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ও শনিবার বিকেলে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এনসিপির অভিযোগ, ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ও প্যান্ডেল ভাঙচুর করে এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য ফল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর। এ উপলক্ষে আগের দিন থেকেই মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছিল। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত অনুষ্ঠানস্থলে এসে প্রথম দফায় ভাঙচুর চালায়। পরে প্রশাসনের সহায়তায় পুনরায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
কিন্তু শনিবার বিকেল ৩টার দিকে আবারও ৫০ থেকে ৬০টি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল হামলাকারী দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মঞ্চে হামলা চালায়। তারা মঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের পাশাপাশি প্যান্ডেলও খুলে ফেলে। এতে অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এনসিপির দাবি, হামলায় রূপগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম সদস্যসচিব ফারাবি হাসান, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব ইউসুফ মোল্লা, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় যুবশক্তির নেতা ইয়াসিন আরাফাত অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে ফল উৎসব পণ্ড করার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদী কায়দার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
ঘটনার পর পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে যান রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন। তবে সেখানে উপস্থিত এনসিপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। এ সময় ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগানও দেওয়া হয়।
বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান দাবি করেন, “যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বিএনপির কেউ নয়। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই আওয়ামী লীগের দোসররা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, “একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
দুই দফা হামলা ও ভাঙচুরের পরও নির্ধারিত সময়েই ফল উৎসবে যোগ দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। অনুষ্ঠানে তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বাঙালির ফলের মৌসুমকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা কাপুরুষোচিত আচরণ। রাজনীতির নামে সন্ত্রাস নয়, দেশের জন্য কাজ করুন। কাজ না থাকলে সীমান্ত পাহারা দিন, অন্তত দেশের উপকার হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের অনেক কর্মী খোলস পাল্টে বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এ ধরনের রাজনীতি দেশের জন্য অশনিসংকেত।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তার ভাষায়, “আমার সহকর্মীদের ওপর হামলা হবে আর আমি সেখানে যাব না—এটা হতে পারে না।”
রূপগঞ্জের এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।




