দুই মাসের শিশুকে আছাড়ে হত্যার অভিযোগ, বাবাকে আটক
ফেনী প্রতিনিধি :
শিশু জুনায়েদের বয়স ছিল মাত্র দুই মাস। কিন্তু সেই শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে ফেনীর ফুলগাজীতে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার জন্ম হয়েছে। শিশুটিকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা মো. সুলতানের (৩০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় ফুলগাজী উপজেলার ভূমি অফিসসংলগ্ন মোহাম্মদ আলী মেম্বার কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আটক সুলতানের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায়। তিনি ফুলগাজীতে ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহত শিশুর মা রুনা আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত এবং প্রায়ই তাঁকে ও সন্তানকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সুলতান ঘরে ফিরে ঘুমন্ত জুনায়েদকে কোলে নেন। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কান্না শুরু করলে রুনা পাশের দোকানে জুস কিনতে যান। ফিরে এসে সন্তানের অস্বাভাবিক অবস্থা দেখে কারণ জানতে চাইলে সুলতান বলেন, শিশু কোল থেকে পড়ে গেছে।
রুনার দাবি, সন্তানের অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিতে চাইলে সুলতান বাধা দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশি ঝামেলা হবে বলে ভয় দেখিয়ে তাঁকে ঘরে আটকে রাখেন। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে অনেক অনুরোধের পর প্রথমে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুনা আক্তার বলেন, “আমার ছেলেকে যেভাবে মেরেছে, আমাকে যেভাবে নির্যাতন করেছে, তার সঠিক বিচার চাই। আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য তার সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুলতান দাবি করেন, শিশুটিকে কোলে নিয়ে খেলার সময় অসাবধানতাবশত হাত থেকে পড়ে গিয়ে আঘাত পায়।
ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করার পর তার মা হত্যার অভিযোগ করেন। একই সময়ে ফুলগাজী থানা থেকে সুলতানকে আটকের নির্দেশনা আসে। পরে তাকে আটক করে থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত বাবাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




