ত্রাণ ভাণ্ডারের নামে অতিরিক্ত পণ্য পাচারের চেষ্টা, কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ৩ জন আটক
বেনাপোল (যশোর):
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত পণ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় কাস্টমসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর মোড় এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ শাড়ি, থ্রি-পিস, চাদর, কম্বল, ওড়না এবং কসমেটিকস সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ডভ্যান চালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসান।
সূত্র জানায়, গত ২১ মে কাস্টমস নিলাম শাখা থেকে ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত কিছু পণ্য—যেমন শাড়ি, থ্রি-পিস, কম্বল ও চাদর—ঢাকায় পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই বৈধ চালানের আড়ালে অতিরিক্ত পণ্য যুক্ত করে পাচারের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিজিবি কাভার্ডভ্যানটি আটক করে। পরে ক্যাম্পে নিয়ে বিস্তারিত গণনায় দেখা যায়, কাগজপত্রে উল্লেখিত পণ্যের বাইরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস ও অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে, যেগুলোর কোনো বৈধ নথি পাওয়া যায়নি।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬ হাজারের বেশি শাড়ি, ৩৮৬টি কম্বল, ২০৮টি চাদর, ৬৩টি থ্রি-পিস, ৮টি ওড়না এবং ৩৩ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন কসমেটিকস সামগ্রী। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে জব্দ করা পণ্য কাস্টমস গুদামে সংরক্ষণ করে পরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি বা হস্তান্তর করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করেই অবৈধভাবে অতিরিক্ত পণ্য বাইরে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে বরখাস্তের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনায় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, জব্দ করা পণ্য ও আটক ব্যক্তিদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




