অসুস্থ নেতৃত্বে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর: ঘুরে দাঁড়ানোর এখনই সময়-
কামরুজ্জামান সিকদার কামাল :
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার অন্যতম ভরসার নাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে। দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব সংকট, শূন্য পদ, চলতি দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী থেকে শুরু করে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে অনেকেই রুটিন দায়িত্ব, চলতি দায়িত্ব ও অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। আবার দেশের বিভিন্ন জেলায় ১২ থেকে ১৩ জন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। ফলে জোড়া-তালি দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, তদারকি ও মাঠপর্যায়ের সেবা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শুধু একটি সরকারি দপ্তর নয়, এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ, গ্রামীণ স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, আর্সেনিকমুক্ত পানির ব্যবস্থা, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপনে এই অধিদপ্তরের অবদান অপরিসীম। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন।
বিশেষ করে গ্রামের মানুষের পানির সমস্যা সমাধানে গভীর নলকূপ স্থাপন, পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও জরুরি পানি ও স্যানিটেশন সেবা দিয়ে থাকে এই অধিদপ্তর। ফলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর কার্যক্রম রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষ ও স্থায়ী নেতৃত্ব ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা ফিরে পাবে না। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ, যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়ন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
সচেতন মহল আশা করছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি। কারণ এই প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হলে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা আরও সহজে পৌঁছে যাবে দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে




