সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়েও ৪ জেলে এখনো নিখোঁজ, পরিবারে চরম উদ্বেগ

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা অঞ্চলের পশ্চিম সুন্দরবনে অপহৃত চার জেলেকে মুক্তিপণ পরিশোধের পরও এখনো ছাড়েনি বনদস্যুরা। ঘটনার ৯ দিন পার হলেও তাদের কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারগুলো চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, গত ৩১ মে শ্যামনগর এলাকার জেলে ইয়াছিন খাঁ, শাহজাহান খাঁ, শাহজাহান আলী ও শরিফুলসহ কয়েকজন জেলে মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে ও সুবদে খাল এলাকায় মাছ ধরার সময় বনদস্যু “নানা ভাই” ওরফে ডন বাহিনীর সদস্যদের হাতে অপহৃত হন। পরে তাদের মুক্তির জন্য দস্যুরা প্রথমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
পরবর্তীতে দর-কষাকষির মাধ্যমে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয় এবং স্বজনরা বিকাশের মাধ্যমে সেই টাকা পরিশোধ করেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। তবে টাকা পরিশোধের পরও জেলেদের মুক্তি দেওয়া হয়নি।
অপহৃত শাহজাহানের এক স্বজন জানান, দস্যুরা আলাদা করে বিভিন্ন অজুহাতে এখনো তাদের আটকে রেখেছে। কারও জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কিছু জেলেকে ছেড়ে দিলেও চারজনকে এখনো জিম্মি করে রাখা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, একটি ঘটনায় জেলেরা দস্যুদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বেশি মুক্তিপণ দাবি করে এবং পরবর্তীতে টাকা পাওয়ার পরও মুক্তি দেয়নি।
এদিকে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মুক্তিপণ পরিশোধের পর নির্ধারিত স্থান বা খাল ঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পারায় জেলেদের স্বজনরা প্রথম দফায় ফিরে আসে। পরে আবারও সুন্দরবনে গিয়ে উদ্ধার প্রচেষ্টা চালায়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন কর্মকর্তারা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই সুন্দরবনে জেলে যাতায়াত কিছুটা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, ফলে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি নজরে রেখেছে বলে জানানো হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ওসি জানিয়েছেন, অনেক সময় জেলেরা স্থানীয়ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে মুক্তির চেষ্টা করে এবং শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিতে অনীহা দেখায়। তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারগুলো দ্রুত চার জেলের নিরাপদ মুক্তি দাবি করেছে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।