জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ইকুয়েডর, প্রথমবার নকআউটে আইভরি কোস্ট
ক্রীড়া ডেস্ক:
ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে দারুণ নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে গ্রুপ ‘ই’। শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর। অন্য ম্যাচে কুরাসাওকে ২-০ গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার গৌরব অর্জন করেছে আইভরি কোস্ট।
নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই লিরয় সানের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নবম মিনিটেই নিলসন আঙ্গুলোর অসাধারণ এক গোলে সমতায় ফেরে ইকুয়েডর। এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাই হাভার্টজকে ডি-বক্সে ফাউল করা হয়েছে বলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতেই লিরয় সানে প্রতিপক্ষকে ফাউল করেছিলেন। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়, যা ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল রদ্রিগেস হেডে বাড়িয়ে দেন। সেই বল দারুণ দক্ষতায় জালে জড়িয়ে দেন গনসালো প্লাতা। জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে ইকুয়েডরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। শেষ দিকে তোরেস ও কাইসেদোকে নামিয়ে রক্ষণ আরও শক্তিশালী করে ইকুয়েডর। ফলে জার্মানির সব আক্রমণ ব্যর্থ করে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
অন্যদিকে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই কুরাসাওয়ের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আইভরি কোস্ট। ম্যাচের ৭ ও ৫৭ মিনিটে নিকোলাস পেপের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
পিছিয়ে পড়ার পর কুরাসাও মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ফোফানার দৃঢ়তায় কোনো গোল করতে পারেনি। নোসলিন ও আন্তোনিস একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেননি। ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে কুরাসাওয়ের ডিফেন্ডার ওবিস্পো একটি নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেন, যদিও সেটি তাদের ভাগ্য বদলাতে পারেনি।
এই দুই ম্যাচের ফলাফলে গ্রুপ ‘ই’-এর লড়াই জমে ওঠে। তিন ম্যাচ শেষে জার্মানি ও আইভরি কোস্ট উভয়েই ৬ পয়েন্ট অর্জন করলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি। রানার্সআপ হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় আইভরি কোস্ট। আর জার্মানিকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেও নকআউট নিশ্চিত করে ইকুয়েডর। তিন ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপের তলানিতে থেকে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয় কুরাসাওয়ের।
ইকুয়েডরের জন্য এটি বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের প্রথমবারের মতো নকআউটে ওঠা আফ্রিকান ফুটবলের জন্যও একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে এই দুই দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।




