বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নীতি নিয়ে ফিফায় অভিযোগ জানাচ্ছে ইরান
ক্রীড়া ডেস্ক :
বিশ্বকাপে দলীয় ভ্রমণ ও প্রস্তুতি সূচি বাস্তবায়নে বাধার অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে যাচ্ছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনাকে ব্যাহত করছে।
ইরানের দাবি, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তারা নিজেদের ভ্রমণ ও প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ সূচি জমা দিয়েছিল। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুমতি না পাওয়ায় কোচিং স্টাফদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে লস অ্যাঞ্জেলেসে আগে পৌঁছানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেক্সিকোর তিহুয়ানা থেকে ২২ জুনের ম্যাচের দুই দিন আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের স্থানীয় পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি শেষ অনুশীলন ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার সুযোগও মিলত।
ইরানের মুখপাত্র বলেন, দলকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়ার জন্যই আগাম ভ্রমণের আবেদন করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি। এতে করে দলের স্বাভাবিক প্রস্তুতি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে ইরান।
এছাড়া প্রথম ম্যাচ শেষে লস অ্যাঞ্জেলেস ত্যাগের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়মের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করা সেই ম্যাচের পর দলকে দ্রুত স্থানত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি ফেডারেশনের।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ইরানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোকে আগেই ভ্রমণ ও অবস্থানসংক্রান্ত নীতিমালা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং সবার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য।
হোয়াইট হাউস ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক Andrew Giuliani সিবিএস নিউজকে বলেন, ইরানকে ম্যাচের আগের দিন শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার রাতেই দেশ ত্যাগ করতে হবে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।
বিশ্বকাপ চলাকালে এই ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিরোধ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন ফিফা ইরানের অভিযোগ কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবল বিশ্বে।




