ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর

নিরাপত্তারক্ষী থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে: তাহা আলির অবিশ্বাস্য উত্থানের গল্প

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement


ক্রীড়া ডেস্ক :

 তাহা আলি—আজ সুইডেন ফুটবলের পরিচিত এক নাম। তবে ছয় বছর আগেও তাঁর জীবন ছিল সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা আর স্বপ্নের এক কঠিন বাস্তবতা। দিনের বেলায় শপিং মলে নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি, আর রাত নামলেই ফুটসালের কোর্টে ছুটে চলা—এভাবেই নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। সেই তরুণই এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে Sweden national football team–এর জার্সিতে খেলার অপেক্ষায়।
২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে খেলছেন Malmö FF–এর হয়ে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি পরিচিত ‘সোমালিয়ার নেইমার’ নামে। এই নামের পেছনে যেমন আছে তাঁর দুর্দান্ত ড্রিবলিং, তেমনি রয়েছে তাঁর পারিবারিক শিকড়ও। সোমালি শরণার্থী পরিবারের সন্তান তাহা আলির জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুইডেনের টেনস্তায়—যে এলাকাকে দেশটির অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়। সেখানকার ছোট ছোট মাঠ আর রাস্তাতেই ফুটবলের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়।
মাত্র আট বছর বয়সে স্থানীয় ক্লাব স্পোঙ্গা আইএসে যোগ দেন তাহা। পরে খেলেছেন সুন্ডবিবার্গসের হয়েও। তবে তখনও তাঁর সামনে বড় কোনো সুযোগ ছিল না। সুইডিশ ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর স্বপ্নটা যেন অনেক দূরের ছিল।
ফুটসালই বদলে দেয় ভাগ্য
২০১৮ সালে তাহা আলি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শীতকালীন বিরতিতে নিজেকে ফিট ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে শুরু করেন ফুটসাল খেলা। নাকা জুনিয়র্সের হয়ে সুইডেনের ফুটসাল প্রথম বিভাগে অভিষেকের পরই নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান তিনি। পরে খেলেছেন হামারবির হয়েও।
ফুটসালে তাঁর গতি, ছোট জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণ এবং একের বিপরীতে এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতা খুব দ্রুত নজর কাড়ে। এর ফলও আসে দ্রুত। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সুইডেন জাতীয় ফুটসাল দলের হয়ে ছয়টি ম্যাচ খেলেন তিনি।
তবে ২০২০ সালে তাহা নেন জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। ফুটসাল ছেড়ে পুরোপুরি মাঠের ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুরুটা হয় নিম্ন বিভাগের ক্লাব স্টকসুন্ড দিয়ে। পরে যোগ দেন সোলেনতুনায়। সেখান থেকেই স্পষ্ট হতে থাকে—তাহা আলি অন্যদের চেয়ে আলাদা।
নিম্ন বিভাগ পেরিয়ে শীর্ষে
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওরেব্রো এসকের সঙ্গে চুক্তি করেন তাহা। মালমোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হয় সুইডিশ চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর অভিষেক। তবে শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথম দিকে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি তিনি।
ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে ভাস্টেরাসে ধারে খেলতে গিয়ে। সেখানে দুই গোল ও আটটি গোলে সহায়তা করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। পুরো মৌসুমে মাঠে তাঁর প্রভাব ছিল এতটাই দৃশ্যমান যে, মৌসুম শেষে ক্লাবের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন।
এরপর হেলসিংবর্গস হয়ে তাহার গন্তব্য হয় সুইডেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব Malmö FF। প্রায় সাত লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে তাঁকে দলে ভেড়ায় ক্লাবটি। সেখানেই যেন পূর্ণতা পেতে শুরু করে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।
মালমোতে সাফল্য, জাতীয় দলে জায়গা
মালমোর হয়ে ইতোমধ্যেই দুটি সুইডিশ লিগ শিরোপা ও একটি সুইডিশ কাপ জিতেছেন তাহা আলি। ২০২৪ সালে অভিষেক হয়েছে সুইডেনের সিনিয়র জাতীয় দলেও। চলতি মৌসুমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে।
২০২৬ সালে ইউরোপা লিগেও খেলেছেন তিনি এবং গোলও করেছেন প্রতিযোগিতাটিতে। মালমোর হয়ে এখন পর্যন্ত ১২৩ ম্যাচে করেছেন ১৮ গোল, সঙ্গে রয়েছে ১৯টি গোলে সহায়তা।
এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে জায়গা করে দিয়েছে সুইডেনের বিশ্বকাপ দলে। Alexander Isak, Viktor Gyökeres ও Gustaf Lagerbielke–এর মতো তারকাদের ভিড়েও তাহা আলি আলাদা হয়ে উঠেছেন নিজের গল্প ও পারফরম্যান্স দিয়ে। বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিতে পেছনে ফেলেছেন Dejan Kulusevski ও Roony Bardghji–এর মতো পরিচিত নামকেও।
‘সোমালিয়ার নেইমার’ নামের পেছনের গল্প
তাহা আলির খেলার ধরনে ফুটসালের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। দ্রুত গতি, ক্ষিপ্র ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং ছোট জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণের কারণে তাঁকে ‘সোমালিয়ার নেইমার’ নামে ডাকতে শুরু করেন অনেক সমর্থক।
তবে সাফল্য তাঁকে শিকড় ভুলিয়ে দেয়নি। সুযোগ পেলেই ফিরে যান নিজের বেড়ে ওঠার এলাকা টেনস্তায়। স্থানীয় তরুণদের টুর্নামেন্টে সহায়তা করেন, শিশুদের পাশে দাঁড়ান এবং নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করেন।
একসময় দিনের বেলায় নিরাপত্তারক্ষীর পোশাক পরে কাজ করা আর রাতে ফুটসালের কোর্টে ঘাম ঝরানো সেই তরুণই এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার অপেক্ষায়। ফুটবলের পৃথিবীতে রূপকথার গল্প কম নেই, কিন্তু তাহা আলির গল্পটা আলাদা—কারণ এটি কেবল একজন ফুটবলারের সাফল্যের গল্প নয়, বরং অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার এক জীবন্ত উদাহরণ।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।