মাকে মারধর, ভরণপোষণেও অবহেলা; ছেলেকে কারাগারে পাঠাল আদালত
চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে জন্মদাত্রী মাকে ভরণপোষণ না দেওয়া, দীর্ঘদিন ধরে খারাপ আচরণ করা এবং মারধর করে আহত করার অভিযোগে আবু ইউছুফ পাটোয়ারী (৩৫) নামে এক যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর আওতায় দায়ের করা মামলায় সোমবার (৮ জুন) তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আবু ইউছুফ পাটোয়ারী উপজেলার চেড়িয়ারা গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির মৃত হাফেজ আহাম্মদ পাটোয়ারীর ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বৃদ্ধা মা শেপালী বেগম দীর্ঘদিন ধরে ছেলের অবহেলা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়ে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ছেলে তার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন না করে উল্টো বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন।
সবশেষ গত ২ জুন দুপুর দেড়টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে আবু ইউছুফ তার মাকে মারধর করেন। এতে শেপালী বেগম গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মেয়ে ও অভিযুক্তের বোন রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সোমবার শাহরাস্তি মডেল থানায় পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর ৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই শাহরাস্তি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবু ইউছুফকে গ্রেপ্তার করে।
পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক মামলার অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে জামিন আবেদন নাকচ করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন সমাজে পারিবারিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। সন্তানের দায়িত্ব হলো বৃদ্ধ পিতা-মাতার যথাযথ দেখভাল ও ভরণপোষণ নিশ্চিত করা। কেউ সেই দায়িত্ব অবহেলা করলে আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি অবহেলা ও নির্যাতনের ঘটনা সমাজে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শাহরাস্তির এই মামলাটি অন্যদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে কাজ করবে। জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি দায়িত্বহীনতা ও নির্যাতনের অভিযোগে সন্তানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও মনে করছেন তারা।




