ঈশ্বরগঞ্জে কিশোরদের সংঘর্ষে বিয়ে বাড়ি পণ্ড, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে উত্তেজনা
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে কিশোরদের মধ্যে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০টি বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সহিংসতার প্রভাব পড়ে একটি দরিদ্র পরিবারের বিয়ের আয়োজনেও, যেখানে রান্না করা খাবার, আসবাবপত্রসহ পুরো আয়োজন নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঈদের দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে তুহিন নামে এক ব্যক্তি তার বোন জিনু আক্তারকে নিয়ে ঘুরতে গেলে এলাকার কিছু কিশোর তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে। অভিযোগ রয়েছে, ইব্রাহিম মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ডেকে এনে মারধর করা হয়। এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রোববার সকালে চরআলগী গ্রামে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
হামলাকারীরা একের পর এক বাড়িতে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর, মূল্যবান মালামাল লুটপাট এবং শতাধিক খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাজিম উদ্দিনের পরিবার। তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। কিন্তু হামলার সময় রান্না করা খাবার, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা এবং বিয়ের সব আয়োজন তছনছ হয়ে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত বরযাত্রীদের কোনো আপ্যায়ন ছাড়াই পাশের একটি বাড়ি থেকে কনেকে বিদায় দিতে হয়।
নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন বলেন, তাদের পরিবারের কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, তবুও বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে আহত ইব্রাহিম মিয়া দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বলেন, বিয়ে বাড়িতে হামলায় তার এলাকার লোকজন জড়িত নয়; বরং প্রতিপক্ষের লোকজনই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, তার ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় তার পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়িতে আক্রমণ চালায়। তবে বিয়ে বাড়িতে হামলা তার এলাকার লোকজন করেনি বলেও তিনি জানান।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেয়। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: সমকাল-




