জনতার ভালোবাসায় গড়া নেতৃত্ব: সেলিনা হায়াৎ আইভীর রাজনৈতিক জীবন ও প্রত্যাবর্তন
গাজী তুষার আহমেদ :
মানুষের সেবাকে যিনি অন্তরের লালন করেন, তিনিই তো আসল নেতা—যার হাতে ক্ষমতা থাকে না থাকে শুধু মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। সততা থাকলে সাহস থাকে, আর সেই সাহসই বারবার প্রমাণ করেছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।
তার রাজনৈতিক অবস্থানের সবচেয়ে আলোচিত ও সাহসী বক্তব্যগুলোর একটি ছিল—“জয় বাংলা বলা যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমি সেই অপরাধেরই অপরাধী হতে চাই।”
এই একটি বাক্যই তাকে সমর্থকদের চোখে আরও দৃঢ়, আপসহীন এবং জনতার পাশে থাকা একজন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।১৩ মাস আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যখন তাকে আটক করতে আসে তখন এই সাহসী বক্তব্য দিয়েছিলো সেলিনা হায়াৎ আইভী।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এক আলোচিত ও পরিচিত নাম। তার রাজনৈতিক জীবন গড়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক, মাঠপর্যায়ের কাজ এবং জনসেবার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শহরের উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনসাধারণের সমস্যা সমাধানে সরাসরি ভূমিকা রাখেন বলে সমর্থকরা মনে করেন।
রাস্তা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সিটি সার্ভিসগুলোকে আরও কার্যকর করার দিকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষের সমস্যা শোনা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন।
তার সততা ও সহজ-সরল জীবনযাপন অনেকের কাছে তাকে আলাদা করে চিনিয়েছে। অনেকেই বলেন, তিনি ক্ষমতার দূরত্ব না রেখে জনগণের খুব কাছাকাছি থেকে কাজ করেছেন। এই কারণেই নিম্ন আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ তাকে “সহজে পাওয়া যায় এমন নেতা” হিসেবে দেখে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু নাম থাকে, যাদের ঘিরে সময় নিজেই আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে—
সেলিনা হায়াৎ আইভী তাদেরই একজন। তার রাজনীতির শুরু থেকেই সমর্থকদের মধ্যে একটি বিশ্বাস গড়ে ওঠে—তিনি জনতার কথা বলেন, জনতার পাশে থাকেন এবং জনতার সাথেই পথ চলেন। এই বিশ্বাসই তাকে “জনতার নেত্রী” পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কঠিন রাজনৈতিক সময় ও কারাবাসের মধ্যেও তিনি ভেঙে না পড়ে বরং আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন বলে সমর্থকরা মনে করেন। সেই সময় তিনি ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং নাগরিক অধিকারের কথা বারবার তুলে ধরেন। মুক্তির পর আবারও জনসমক্ষে এসে তিনি বলেন—সমাজে অনেক নিরীহ নারী-পুরুষ বিভিন্ন অভিযোগে আটক আছেন, তাদের দ্রুত মুক্তি প্রয়োজন এবং আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।
তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমর্থকরা এটিকে মানবিক ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে বিশ্লেষকেরা এটিকে স্থানীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। মুক্তির পর তার চারপাশে জনতার উচ্ছ্বাস ও আবেগ আবারও প্রমাণ করে যে তার জনপ্রিয়তা এখনো দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
সব মিলিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভীর রাজনৈতিক জীবনকে সমর্থকরা “জনসেবা, সততা, সাহস এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের এক শক্তিশালী সমন্বয়” হিসেবে দেখেন। আর তার প্রত্যাবর্তনকে অনেকে কেবল রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং জনগণের ভালোবাসা, আস্থা এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পুনর্জাগরণ হিসেবে বিবেচনা করেন।




