সীমান্তে মানবেতর পরিস্থিতি:আর সহ্য হচ্ছে না, ৬৩ ঘণ্টা আটকে থাকা ব্যক্তির আর্তনাদ-
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের ‘পুশইন’ ঘটনার পর ১২ জন নারী-পুরুষ ও শিশু টানা ৬৩ ঘণ্টা ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবস্থানগত টানাপোড়েনের কারণে এখনো তাদের বিষয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।
স্থানীয়দের মানবিক সহায়তার মধ্যেই তারা কোনোভাবে দিন পার করছেন। তবে খাবার, কাপড় ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব মানুষ।
শূন্যরেখায় মানবিক সংকট
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শূন্যরেখার পাটক্ষেতের আলের পাশে একটি শিমুলগাছের নিচে পলিথিন বিছিয়ে বসে আছেন ওই ১২ জন। নারী, পুরুষ ও শিশুরা একসঙ্গে অত্যন্ত কষ্টকর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন।
রবিবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দা গাজিউর রহমান কৌশলে তাদের জন্য খাবার, পোশাক ও মশারি পৌঁছে দেন। আরেক স্থানীয় ব্যক্তি মিলন আলী রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার এবং একটি কাঁঠাল দেন।
গাজিউর রহমান বলেন, “বাচ্চাগুলো খুব কষ্টে আছে। তাদের অবস্থা দেখে মানবিক কারণে সাহায্য করেছি।”
ভুক্তভোগীদের আকুতি
সীমান্তে আটকে থাকা ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ভিডিওতে বলেন,
“বর্তমানে আমরা বেহাল অবস্থায় আছি। আমাদের বাচ্চাকাচ্চা প্রায় অসুস্থ। গরমে আমরা টিকতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের একটা সুব্যবস্থা করেন। আমাদের জীবন আর সহ্য হচ্ছে না। আমাদের কাগজপত্র আছে। আমরা এ দেশের নাগরিক না রোহিঙ্গা—তদন্ত করে দেখেন।”
তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে খাবার, কাপড় ও চিকিৎসার অভাবের চরম সংকট।
৬৩ ঘণ্টা ধরে অচলাবস্থা
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৬৩ ঘণ্টা পার হলেও ওই ১২ জনকে নিয়ে কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। সীমান্তে দুই দেশের বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, তারা পুশইন বা অনুপ্রবেশ সমর্থন করে না। অন্যদিকে বিএসএফ দাবি করছে, আটক ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক নন।
বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের প্রাগপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জানান, এখন পর্যন্ত নতুন কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফের পক্ষ থেকেও আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অনিশ্চয়তার মধ্যে ভবিষ্যৎ
সবচেয়ে বড় সংকট হলো, পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় এবং দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় আটকে পড়া মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মানবিক সহায়তা ছাড়া তাদের জন্য কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়।




