শিক্ষকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ
বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ দ্বিতীয় দফার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। পদোন্নতি নীতিমালা বাস্তবায়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং উপাচার্যের অপসারণের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষকরা।
সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা ক্লাস ও সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিজ নিজ দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক তিনটি পদ থেকে তিনজন শিক্ষক ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষকরা উপাচার্য প্রফেসর ড. তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বোর্ড না বসিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, “যে নীতিমালায় আগে পদোন্নতি হয়েছে, সেই নীতিমালাতেই পদোন্নতি সম্ভব। কিন্তু উপাচার্য কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছেন না।”
অন্যদিকে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রয় বলেন, “উপাচার্যকে প্রশাসনিকভাবে আর কোনো সহযোগিতা করা হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
এদিকে উপাচার্য প্রফেসর ড. তৌফিক আলম দাবি করেছেন, প্রয়োজনীয় সংবিধি প্রণয়ন ছাড়া শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হলেও শিক্ষকরা আন্দোলনের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। এতে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”




