সাঁথিয়ায় পশুর হাট নিয়ে বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা, ঈদের আগ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি
পাবনা পপ্রতিনিধি
পাবনার সাঁথিয়ায় অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টা থেকে ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সাঁথিয়া পৌরসভাধীন ইছামতী নদীর তীরবর্তী ডাইকের পাশে একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি পাওয়ার পর মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়। ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মোট ২৬ জন দরদাতা অংশ নেন। তবে নিলাম চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দিলে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিফ রায়হান নিলাম কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।
পরে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পুনরায় নিলামের ডাক দেওয়া হলে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিলাম বর্জন করে হলরুম ত্যাগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা জারি করে।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, এখনও কোনও পক্ষকে পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় জনস্বার্থে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৪৪ ধারা চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, সভা-সমাবেশ, মিছিল, মাইকিং, লাঠিসোঁটা বা দেশীয় অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, প্রশাসনের একটি পক্ষের যোগসাজশে উন্মুক্ত নিলাম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম দাবি করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের হুমকি ও গালিগালাজের কারণে তারা নিলাম বর্জন করতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে বোয়াইলমারী হাটের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন জানান, ইছামতী নদীর ডাইকের পাশে নতুন করে কোনও অস্থায়ী পশুর হাট বসবে না। আগামী সোমবার থেকে বোয়াইলমারী পেঁয়াজ হাটেই পশুর হাট পরিচালিত হবে।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৪৪ ধারা বাস্তবায়নে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।




