পুলিশকে আরও জনবান্ধব করতে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পুলিশ বাহিনীকে আরও সেবামুখী, পেশাদার ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাসী। এই নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি করে জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী আলোচিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালনকারী পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জনবান্ধব হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অপরাধ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয় এবং তারা অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের সরাসরি তদন্ত ছাড়াই সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে। তাই ওই প্রতিবেদনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করার যথেষ্ট সুযোগ নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে জেলা ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি সংবাদও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো অভিযোগ বা অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মামলা তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, তদন্ত, পোস্টমর্টেম ও অন্যান্য পুলিশি কার্যক্রমের জন্য সরকারি বরাদ্দ বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। জাতীয় অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাজেট পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ভবিষ্যতে তদন্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ব্যবস্থার পাশাপাশি পুলিশি টহল জোরদার, অপরাধ দমন এবং সেবার মান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
পলাতক ও শৃঙ্খলাভঙ্গকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো অপরাধী বা অনিয়মকারী কর্মকর্তার প্রতি কোনো ধরনের অনুকম্পা দেখানো হবে না। ইতোমধ্যে আলোচিত কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি অ্যাক্ট) অথবা দণ্ডবিধির আওতায় মামলা রয়েছে, তাদেরও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি জনমুখী পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।




