ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা

পঞ্চগড়ের ৫১ বিদ্যালয়ে পানির প্রকল্পে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

 পঞ্চগড় জেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে গভীর নলকূপ ও সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রায় ৫১ লাখ টাকার এই প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও শেষ না হওয়ায় এবং কাজের মান নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পটি শুরু হয় ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর। ১৮০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কাজ সম্পন্ন হয়নি। অনেক স্থানে এখনো পাম্প বসানো হয়নি, আবার কোথাও কাজ মাঝপথে বন্ধ রয়েছে।
অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে শুরু থেকেই স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। কোথায় কত গভীরতায় বোরিং করা হচ্ছে, কী ধরনের পাইপ ও ফিল্টার ব্যবহার করা হচ্ছে বা প্রতিটি স্থাপনায় কত টাকা ব্যয় হচ্ছে—এ বিষয়ে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি।
তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, যেখানে ১০০ ফুট বা তার বেশি গভীরতায় বোরিং করার কথা ছিল, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৭০ ফুট গভীরতায় কাজ শেষ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের পাইপ ও ফিল্টার ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এতে পানির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।
ছেতনাই টেংগনমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম বলেন, স্কুল চলাকালে উপস্থিত থেকে কাজ করার অনুরোধ জানানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিকেল ৫টার পর তড়িঘড়ি কাজ শেষ করে চলে যায়। এতে পুরো প্রক্রিয়ায় লুকোচুরির সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষা অফিসের অজ্ঞতার অভিযোগ
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম জানান, ২২টি বিদ্যালয়ে নলকূপ স্থাপনের কাজ চললেও শিক্ষা অফিসে কোনো কার্যাদেশ বা আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়নি। ফলে কাজের মান তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, একটি বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও সিলবিহীন ফিল্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
সময় বাড়ানোর আবেদন ও ব্যাখ্যা
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ঠিকাদার পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
পঞ্চগড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান বলেন, সাবমার্সিবল পাম্প বসাতে সাধারণত ৩–৪ দিন সময় লাগে। তেঁতুলিয়ায় পাথরের স্তর থাকায় ৭০ ফুটের বেশি গভীরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অন্য এলাকায় ৯০–১০০ ফুট গভীরতায় বোরিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঠিকাদারদের বক্তব্য অনুপস্থিত
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উদ্বেগ
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ গভীরতা ও মান নিশ্চিত না হলে এসব নলকূপের পানি নিরাপদ নাও হতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।