পদ্মা সেতুর পিলারের নিচের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।এ দায় কার?
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অনুমতি নিয়েই এই কাজ করা হয়েছে এবং এতে রেলসেতুর পিলারের কোনও ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি দফতরের কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে এমন কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে প্রকল্পের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে পদ্মা রেল প্রকল্পের ব্রিজ অ্যান্ড ভায়াডাক্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হয়েছে।
তিনি বলেন, পিলার নম্বর ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ওই স্থানটি আগে জলাশয় ছিল। পরে প্রকল্পের নির্মাণকাজের সুবিধার্থে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেখানে মাটি ও বালু ভরাট করে ভায়াডাক্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।
আমিনুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবে নির্মাণকাজ শেষে এলাকাটিকে আবারও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেই নির্দেশনা অনুসারেই বর্তমানে ভরাট করা মাটি অপসারণ করে জলাশয় পুনঃখননের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, “এটি প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশবান্ধব নির্দেশিকার অংশ। কাজের সুবিধার জন্য আগে মাটি ভরাট করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে কেটে ফেলার নির্দেশনা রয়েছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনাটি নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রকৌশলী আমিনুল করিম জানান, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী ওই এলাকায় জলাশয় সংরক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ভূমির গভীরতা ও প্রকৌশলগত বিবেচনায় পাইল ও পাইল ক্যাপের শক্ত ভিত্তির ওপর অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে মাটি কাটার কারণে পিলার বা রেল অবকাঠামোর কোনও ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মতে, এটি পরিকল্পিত ও অনুমোদিত কার্যক্রমের অংশ, যার উদ্দেশ্য পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রকল্প এলাকার পূর্বের জলাশয় পুনরুদ্ধার করা।




