তোফায়েল আহমেদের জানাজায় বাধা, জড়িতদের শনাক্তে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশ
ভোলা প্রতিনিধি:
্ভোলায় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দলটির হাইকমান্ড জানিয়েছে, জানাজায় বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত অতি উৎসাহী নেতা-কর্মীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত সোমবার রাজধানীতে মৃত্যুবরণ করেন তোফায়েল আহমেদ। পরে তাঁর নিজ জেলা ভোলায় দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জানাজার আগের রাত থেকেই কিছু নেতা-কর্মীর বিক্ষোভ ও মোটরসাইকেল মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজার প্রস্তুতি চলাকালে ছাত্রদল, যুবদল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা জানাজার প্যান্ডেল নির্মাণে বাধা দেন এবং প্যান্ডেলের কিছু অংশ খুলে ফেলেন। এতে জানাজার পরিবেশ কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তবে জানাজায় অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বলেন। ফলে নির্ধারিত সময়েই জানাজা সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনার পর বিএনপির স্থানীয় নেতারা দাবি করেন, জানাজা প্রতিহত করার কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও একই অবস্থান জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের নীতি ও সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সৌজন্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বলেও নেতারা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করেছেন, একটি সংগঠিত গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জানাজার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তাঁদের মতে, একজন জাতীয় নেতার শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নিন্দনীয়।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, এ ঘটনা ভোলাবাসীর সামগ্রিক মনোভাবের প্রতিফলন নয়; বরং একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড। তাঁরা মনে করেন, তোফায়েল আহমেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদান বিবেচনায় তাঁর জানাজাকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া দুঃখজনক।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে জেলা বিএনপিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে যাঁরা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার জানাজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ ঘটনা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এনেছে।




