নেইমারের প্রত্যাবর্তনে উজ্জীবিত ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী আনচেলত্তি
ক্রীড়া ডেস্ক :
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে সবচেয়ে বড় সুখবর হলো তারকা ফরোয়ার্ড Neymar-এর প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন তিনি, আর তাকে ঘিরেই এখন ব্রাজিল সমর্থকদের সব আগ্রহ।
ব্রাজিলের প্রধান কোচ Carlo Ancelotti জানিয়েছেন, নেইমার এখন পুরোপুরি ফিট এবং প্রয়োজন হলে ৯০ মিনিটই খেলতে পারবেন। গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে কাফে চোট পাওয়ার পর মাঠের বাইরে চলে যান এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। ফলে মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে তাকে পায়নি ব্রাজিল।
তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে দলে ফিরেছেন নেইমার। সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, নেইমার পুরো সপ্তাহজুড়ে দারুণ অনুশীলন করেছেন এবং নিজেকে ম্যাচের জন্য চমৎকারভাবে প্রস্তুত করেছেন। তাঁর মতে, নেইমারের অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব দলের জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠবে।
কোচ বলেন,
“নেইমার খেলার জন্য প্রস্তুত। সে পুরো সপ্তাহ ভালোভাবে কাজ করেছে এবং নিজেকে ম্যাচের জন্য তৈরি করেছে। আমরা সবাই তার ফিরে আসায় খুশি। তার মানসম্পন্ন ফুটবল দলকে অনেক কিছু দিতে পারে। সে ৯০ মিনিট খেলতে সক্ষম এবং শারীরিকভাবেও ভালো অবস্থায় রয়েছে।”
রাফিনিয়ার অনুপস্থিতি নিয়ে চিন্তা
অন্যদিকে ব্রাজিলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় Raphinha-এর অনুপস্থিতি দলকে নতুন ভাবনায় ফেলেছে। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার। ফলে স্কটল্যান্ড ম্যাচে তাঁর বিকল্প কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
যদিও কোচিং স্টাফ ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তবে আনচেলত্তি সেই নাম প্রকাশ করতে চাননি। তিনি বলেন, দলের লক্ষ্য হলো সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামা এবং আক্রমণভাগকে যতটা সম্ভব কার্যকর রাখা।
রায়ান, লুইজ হেনরিকে নাকি মার্তিনেল্লি?
রাফিনিয়ার বিকল্প হিসেবে ব্রাজিলের হাতে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন Ryan, Luiz Henrique এবং Gabriel Martinelli।
হাইতির বিপক্ষে রাফিনিয়ার বদলি হিসেবে নেমে ভালো পারফরম্যান্স করেন রায়ান। তার খেলায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আনচেলত্তি বলেন, রায়ানের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং দলের কৌশলের সঙ্গে সে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে।
কোচের ভাষায়,
“রাফিনিয়ার পরিবর্তে নেমে রায়ান ভালো খেলেছে। তার অনেক সম্ভাবনা আছে। মাঠের প্রস্থ বজায় রাখতে চাইলে সে আমাদের জন্য কার্যকর হতে পারে।”
এন্দ্রিককে নিয়ে উচ্ছ্বাস
ব্রাজিলের তরুণ সেনসেশন Endrick-কে শুরুর একাদশে দেখা যাবে কি না, সেটিও সংবাদ সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলেননি আনচেলত্তি।
তিনি জানান, এন্দ্রিক যে কোনো ম্যাচে খেলতে সক্ষম এবং তার সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে একই সঙ্গে তিনি মজার ছলে বলেন, আগামী ম্যাচে সমর্থকদের সামনে একদিকে থাকবে এন্দ্রিক, অন্যদিকে ফিরবেন নেইমার। ফলে সমর্থকেরা কাকে বেশি সমর্থন করবেন, সেটাই দেখার বিষয়।
আনচেলত্তি বলেন,
“এন্দ্রিক যে কোনো সময় খেলতে পারে। তার সেই সামর্থ্য রয়েছে। সমর্থকেরা তাকে নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আগামীকাল নেইমারও মাঠে থাকবে। তখন তারা কাকে সমর্থন করবে—নেইমারকে নাকি এন্দ্রিককে? আমার বিশ্বাস, তারা দুজনকেই সমর্থন করবে।”
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী সেলেসাও
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করে নকআউট পর্বে আরও শক্ত অবস্থানে যেতে চায় ব্রাজিল। নেইমারের প্রত্যাবর্তন, তরুণদের আত্মবিশ্বাস এবং আনচেলত্তির কৌশলগত পরিকল্পনা মিলিয়ে দলটি এখন অনেকটাই পূর্ণশক্তির রূপ পেয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে নেমে নেইমার কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন এবং ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে নতুন করে কতটা প্রাণবন্ত করে তুলতে পারেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর প্রত্যাবর্তন যে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।




