মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ, রক্ষণে দুশ্চিন্তা রেখেই জয়
ক্রীড়া ডেস্ক :
র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৫৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা মালদ্বীপের বিপক্ষে সহজ জয়ই প্রত্যাশিত ছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই আধিপত্য পুরোপুরি দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৪-২ গোলের জয় পেলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা চিন্তায় রাখছে পিটার বাটলারের দলকে। তবু এই জয়েই সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখায় বাংলাদেশ। কিক-অফের মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সুইডেনপ্রবাসী ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্ধিকী। ঋতুপর্ণা চাকমার দারুণ ক্রস থেকে নিখুঁত শটে মালদ্বীপ গোলরক্ষক ফাতিমাথ সৌসানকে পরাস্ত করেন তিনি। তহুরা খাতুনকে বেঞ্চে রেখে আনিকাকে একাদশে নামানোর সিদ্ধান্তে শুরুতেই সফল হন কোচ পিটার বাটলার।
প্রথম গোলের পর আক্রমণে চাপ ধরে রাখলেও দ্বিতীয় গোল পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ৩৪ মিনিট পর্যন্ত। মালদ্বীপের রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে উমেহলা মারমা ঠান্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।
তবে ম্যাচে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিতে থাকে মালদ্বীপ। প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন মারিয়াম নূর। তাঁর শট বাংলাদেশের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে ক্রসবারে লেগে জালে জড়ায়।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ৫৬ মিনিটে সাবেক অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের ভুল ট্যাকলের সুযোগ নিয়ে আমিনাথ ফাজলা গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান।
ম্যাচ যখন কঠিন হয়ে উঠছিল, তখন ৬৪ মিনিটে বাংলাদেশকে আবারও এগিয়ে দেন সুরভী আকন্দ প্রীতি। ঋতুপর্ণা চাকমার বিপজ্জনক ক্রসে মালদ্বীপ গোলরক্ষক বল ধরতে ব্যর্থ হলে ফাঁকা পোস্টে সহজেই বল জালে পাঠান তিনি।
যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে হেডে চতুর্থ গোল করেন কোহাতি কিসকু। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
টানা তৃতীয় সাফ শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ৩১ মে ভারতের বিপক্ষে। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভারতের ১১ গোলের বড় জয় থাকায় সেই ম্যাচের আগে নিজেদের রক্ষণভাগ নিয়ে কাজ করতে হবে পিটার বাটলারের দলকে।




