স্বপ্নপূরণের রাতে কোহলির ব্যাটেই জয়সূচক রান, টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু
ক্রীড়া ডেস্ক :
আইপিএলের ফাইনালে নাটকীয় এক জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ফাইনালে গুজরাট টাইটানস-কে ৫ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাসের আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করেছে বেঙ্গালুরু। আর এই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দলের অন্যতম ভরসার প্রতীক বিরাট কোহলি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরশাদ খানের করা একটি লেন্থ বলকে লং-অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন কোহলি। বল সীমানার বাইরে যেতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তিনি। গ্যালারির দিকে ইশারা করে বিশেষ ভঙ্গিতে উদযাপন করেন, আর সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ছুটে এসে তাঁকে ঘিরে আনন্দে মাতেন সতীর্থরা।
দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি মুহূর্তের স্বপ্ন দেখছিলেন কোহলি। আইপিএলের শিরোপা জয় এবং সেই জয়ের শট নিজের ব্যাট থেকে আসবে—এই কল্পনা তিনি বহুবার করেছেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই ভারতীয় তারকা ব্যাটার।
ফাইনালে বেঙ্গালুরুর জয়ের নায়ক ছিলেন কোহলি। ৪২ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কোহলি বলেন, তিনি বহুবার কল্পনা করেছেন যে দল আইপিএলের ট্রফি জিতছে এবং জয়সূচক শটটি তাঁর ব্যাট থেকেই আসছে। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি ভীষণ আনন্দিত।
সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে কোহলি ৬৭৫ রান করে টুর্নামেন্টের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন। পুরো আসরজুড়েই তিনি ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান ভরসা। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ফাইনালের আগে সতীর্থদের উদ্দেশে কোহলি বলেন, কোনো অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। দল নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং লিগ পর্বে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পেছনে তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই ছিল মূল কারণ। তিনি বিশ্বাস করতেন, দল যদি নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারে, তাহলে তাদের হারানো কঠিন হবে।
দলের ভারসাম্য ও গভীরতা নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন কোহলি। তাঁর মতে, এখন আর এককভাবে কাউকে ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব নিতে হয় না। দলের বিভিন্ন ক্রিকেটার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবদান রাখছেন। বোলিং বিভাগে জশ হ্যাজলউড, ভুবনেশ্বর কুমার এবং ডাফির মতো অভিজ্ঞ বোলারদের পাশাপাশি অলরাউন্ডার ক্রুণাল পান্ডিয়া ও তরুণ ক্রিকেটার রাসিখ দারের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন তিনি।
কোহলি বলেন, এই দলটির অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত। তাঁর মতে, বেঙ্গালুরু এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ দল, যারা ব্যাটিং, বোলিং ও মানসিক দৃঢ়তায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। আর সেই কারণেই মাঠে নামার আগে দলটির আত্মবিশ্বাসও থাকে অনেক বেশি।
টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল শিরোপা জিতে বেঙ্গালুরু প্রমাণ করেছে, তারা এখন শুধু জনপ্রিয় দলই নয়, বরং আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সফল শক্তিতেও পরিণত হয়েছে। আর সেই সাফল্যের অন্যতম প্রতীক হয়ে থাকবেন বিরাট কোহলি।




