তারেক-আনোয়ার বৈঠক: সামরিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত হলো প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা
ডেস্ক রিপোর্ট :
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিরক্ষা, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া গিয়ে তারেক রহমান দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উভয় দেশ বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়। এ লক্ষ্যে বর্তমান প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের পাশাপাশি একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিরক্ষা রোডম্যাপ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তদারকির জন্য দ্রুত যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিটি (জেসিডিসি) গঠন করা হবে। এই কমিটির মাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময়, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হবে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এবং কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজগুলোর মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, সামরিক বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারত্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘদিনের অবদানকে আরও শক্তিশালী করতে যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ ও প্রাক-মোতায়েন প্রস্তুতি কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে উভয় দেশ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগাভাগি করবে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান গ্লোবাল হালাল অর্থনীতি-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে মালয়েশিয়া পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস অন কোঅপারেশন ইন দ্য ফিল্ড অব হালাল ইকোসিস্টেম’ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই সহযোগিতার আওতায় মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা, মান নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং বাজার সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারবে। মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট বিভাগ JAKIM এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে দুই দেশের এই সহযোগিতা। যৌথ বিবৃতিতে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক, স্মার্ট গভর্ন্যান্স এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার খাতে বিনিয়োগ ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের দেশের প্রযুক্তি পার্ক, হাই-টেক পার্ক এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ই নয়, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে অংশীদারত্ব দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও বহুমাত্রিক ও ফলপ্রসূ করে তুলবে।




