ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর

পঞ্চম বিশ্বকাপের পথে নাগাতোমো: বয়স শুধু সংখ্যা, স্বপ্ন এখনও অমলিন

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement


ক্রীড়া ডেস্ক :

 ৩৯ বছর বয়সেও থামার কোনো লক্ষণ নেই ইউতো নাগাতোমোর। জাপানের অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছেন— এবার পঞ্চমবারের মতো। এর মাধ্যমে এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড গড়তে চলেছেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার কিংবদন্তি হং মিয়ং-বো ও সৌদি আরবের সামি আল-জাবেরকে পেছনে ফেলে পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এশিয়ার প্রথম ফুটবলার এখন নাগাতোমো।
স্কোয়াড ঘোষণার দিন নিজের নাম দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। চোখের পানি লুকাননি। কারণ ফুটবল তাঁর কাছে শুধু খেলা নয়, জীবনের অনুভূতি।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর বিশ্বকাপ যাত্রা। সেই আসরে জাপান পৌঁছেছিল শেষ ষোলোতে। টুর্নামেন্ট শেষে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে আসেন নাগাতোমো। এরপর ইতালির বিখ্যাত ক্লাব ইন্টার মিলানে যোগ দিয়ে সাত বছরে খেলেন দুই শতাধিক ম্যাচ। পরে তুরস্কের গালাতাসারায় এবং ফ্রান্সের অলিম্পিক মার্শেইয়ের জার্সিতেও মাঠ মাতান। ২০২১ সালে ফিরে আসেন নিজের দেশ জাপানে, যোগ দেন এফসি টোকিওতে।
তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি আসে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। জার্মানিকে হারানোর পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নাগাতোমোর সেই বিখ্যাত চিৎকার— “ব্রাভো!”— মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
দলের ভেতরে তাঁর আরেকটি পরিচয়ও আছে। নিজেকে তিনি বলেন “এয়ার পিউরিফায়ার”। কারণ ড্রেসিংরুমের চাপা বা ভারী পরিবেশ মুহূর্তেই প্রাণবন্ত করে তুলতে পারেন তিনি। ১৪৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞ এই ফুটবলার বিশ্বাস করেন, বিশ্বকাপের আলাদা এক আবহ আছে, আর সেই আবহে দলের মানসিক শক্তি ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসুও চান নাগাতোমো তাঁর অভিজ্ঞতা দিয়ে তরুণদের পথ দেখান। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের চাপ কল্পনার চেয়েও বেশি, আর সেই চাপ সামলানোর শিক্ষা নাগাতোমোর মতো অভিজ্ঞদের কাছ থেকেই পাওয়া সম্ভব।
তবে এবার মাঠে নিয়মিত দেখা নাও যেতে পারে তাঁকে। বছরের শুরুতে হ্যামস্ট্রিং চোটে দুই মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। গত বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন মাত্র দুটি ম্যাচ। একসময়কার সেই দুরন্ত গতি হয়তো কমেছে, কিন্তু মানসিক দৃঢ়তায় এখনও অটুট নাগাতোমো।
২০১০ সালের জাপান দলের সঙ্গে বর্তমান দলের পার্থক্যও বিশাল। তখন বিদেশি লিগে খেলতেন হাতে গোনা কয়েকজন ফুটবলার, আর এখন প্রায় পুরো দলই ইউরোপের বড় বড় ক্লাবে খেলছে। সেই শক্তির ওপর ভর করেই কোচ মোরিয়াসু বিশ্বাস করেন, জাপান এবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে। নাগাতোমোও সেই বিশ্বাসে অটল।
পঞ্চম বিশ্বকাপের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর একটাই লক্ষ্য— নিজের সব অভিজ্ঞতা দলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁর ভাষায়, এবার তাঁর ভেতরের জেদ ও চেতনা আগের চেয়ে আরও বেশি তীব্র। আর সেই জেদ নিয়েই তিনি আবার নামছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।