ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা

কোরবানির চামড়ার বাজারে ধস, ক্ষোভে ফুঁসছেন বিক্রেতারা

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement


নিজস্ব প্রতিবেদক :  

কোরবানির ঈদ এলেই একসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চামড়ার বাজার জমে উঠত। কিন্তু এবারও সেই চিত্রের উল্টো দৃশ্য দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গের বগুড়া, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও মেহেরপুরের গাংনীসহ বিভিন্ন এলাকায় গরু ও ছাগলের চামড়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কোরবানিদাতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কোথাও গরুর চামড়া ১০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আবার ছাগলের চামড়া অনেক জায়গায় কেউ কিনতেই চাইছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারিমালিকদের বকেয়া টাকা না পাওয়া, লবণের দাম বেড়ে যাওয়া এবং পশুর ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজের কারণে চামড়ার মান নষ্ট হওয়ায় পুরো খাতেই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে বড় আড়তদাররা বাজারে সক্রিয় হননি, আর মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানে পড়েছেন।
বগুড়ার ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় গরুর চামড়া সংগ্রহ করেও শহরে এনে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে গাড়িভাড়া ও শ্রমিক খরচও উঠছে না। খাসির চামড়ার অবস্থা আরও খারাপ। ৩০ থেকে ৬০ টাকায় কেনা চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকায়।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে পাইকারি ক্রেতার দেখা না পাওয়ায় অনেক চামড়া অবিক্রীত পড়ে থাকে। পরে কিছু ক্রেতা এলেও তারা গরুর চামড়ার দাম হাঁকেন মাত্র ১০০ টাকা। এতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন।
এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু বাজারে এনে কোনো আড়তদার না পেয়ে এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না। আরেকজন বলেন, লাভের আশায় ২৪টি চামড়া কিনলেও এখন পুরো বিনিয়োগ হারানোর শঙ্কায় আছেন।
চৌদ্দগ্রামের এক কোরবানিদাতা জানান, ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ষাঁড় কিনে কোরবানি দেওয়ার পর চামড়াটি মাত্র ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। অনেকে আবার বিক্রি করতে না পেরে চামড়া ফেলে বাড়ি ফিরে গেছেন।
মেহেরপুরের গাংনীতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও ছাগলের চামড়ার দাম নেমে এসেছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। অনেকেই চামড়া বিক্রি না করে এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর একই সংকট তৈরি হলেও চামড়া খাতকে স্থিতিশীল করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যানারি খাতে সিন্ডিকেট, বকেয়া অর্থ আটকে থাকা এবং আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থার অভাবের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানি খাত ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।