কিশোরগঞ্জে চাঞ্চল্য: মাকে হত্যার অভিযোগে পলাতক ভ্যানচালক ছেলে
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃদ্ধা মারুফা বেগমকে (৬০) হত্যা করে নিজ শোয়ার ঘরের মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন তাঁর ছেলে মো. জুয়েল (৩৫)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জুয়েল পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মারুফা বেগম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফের স্ত্রী। তাঁর ছেলে জুয়েল পেশায় একজন ভ্যানচালক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তাঁকে হত্যা করে ঘরের মাটির নিচে লাশ গোপন করা হয়।
নিহতের ছোট ছেলে লাবিন জানান, তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। ওই সময় বাড়িতে তাঁর মা মারুফা বেগম, বড় ভাই জুয়েল, ভাবি হাসি বেগম ও ভাতিজা অবস্থান করছিলেন।
লাবিন আরও জানান, ২ জুন রাতে নিজ বাড়িতে ফিরে তিনি বড় ভাইয়ের শোয়ার ঘরের মাটিতে অস্বাভাবিক ফাটল দেখতে পান। একই সঙ্গে বিছানায় রক্তের দাগও তাঁর নজরে আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে জুয়েলের শোয়ার ঘরের মাটি খুঁড়ে মারুফা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জুয়েলকে খুঁজছে পুলিশ। এলাকাজুড়ে এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।




