হিংগুল স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার চিত্র:প্রবাসে থেকেও মানুষের পাশে চপল-
নিজস্ব প্রতিবেদক :
গোপালগঞ্জ সদরে উলপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের ৮ থেকে ১০টি ইউনিয়নের মানুষের মুখে আজ একটি নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়— মুশফিকুর রহমান চপল। প্রবাসে কানাডায় অবস্থান করেও তিনি যেভাবে নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই বিরল।
প্রতিবছরের মতো এবারও তাঁর পরিবার ও হিংগুল স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত হয় মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান। এটি অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব নিজড়া সিকিপাড়া এসকেএম হাইস্কুল মাঠে। ১০টি ইউনিয়নের স্কুল নিয়ে এই আয়োজন শুধু একটি বৃত্তি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখানোর এক মহৎ প্রয়াস। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শিক্ষার বিকল্প নেই— সেই বিশ্বাস থেকেই বছরের পর বছর ধরে এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে এই পরিবার।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের চোখেমুখে ছিল আনন্দ, গর্ব ও অনুপ্রেরণার ছাপ। কারণ এই সম্মাননা শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, তাদের আরও ভালো কিছু করার সাহস দেয়। আজ যারা এই সম্মাননা পাচ্ছে, আগামী দিনে তারাই দেশের নেতৃত্ব দেবে— এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজকে এগিয়ে নেয় এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখায়। বর্তমান সময়ে যখন সমাজের অনেক তরুণ নানা বিভ্রান্তি, মাদক ও প্রযুক্তি আসক্তির ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন শিক্ষাকেন্দ্রিক ও মানবিক এই উদ্যোগগুলো আশার আলো হয়ে উঠছে।
মুশফিকুর রহমান চপলের মানবিক কর্মকাণ্ড কেবল শিক্ষাবৃত্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এতিম শিশুদের জন্য এতিমখানা পরিচালনার মাধ্যমে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি যে কোনো দুর্যোগ ও সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেন তাঁর নৈতিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।
করোনা মহামারির ভয়াবহ সময়ে যখন মানুষ আতঙ্কে ঘরবন্দি, তখন গোপালগঞ্জে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা যখন ঘরে ঘরে ফ্রি অক্সিজেন সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়, তখন মুশফিকুর রহমান চপল সর্বোচ্চ ১৪টি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষায় সহযোগিতা করেন। সংকটকালে এমন মানবিক সহায়তা আজও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সমাজে এমন মানসিকতার মানুষের সংখ্যা বাড়লে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন অনেক বেশি নিরাপদ ও আলোকিত হবে। একজন মানুষ প্রবাসে থেকেও কীভাবে নিজের শেকড়কে ভুলে না গিয়ে সমাজের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করতে পারেন, তার উজ্জ্বল উদাহরণ মুশফিকুর রহমান চপল।
এই আয়োজন ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের গর্ব আর আয়োজকদের আন্তরিকতা পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই বলেন, শুধু শিক্ষা নয়— সুশিক্ষাই জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে। তাই নতুন প্রজন্মকে মানবিক, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।
গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কে এম বাবর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, এমন মহতী আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে তিনি গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি বলেন, সমাজে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেইসব মানুষ, যারা নিঃস্বার্থভাবে এবং নিরবে প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মুশফিকুর রহমান চপল ও তাঁর পরিবারের মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি এলাকার জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আজ যারা ছোট ছোট শিক্ষার্থী হিসেবে এই মঞ্চে সম্মাননা গ্রহণ করছে, আগামী দিনে তারাই দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। এই সম্মাননা, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণাই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি যোগাবে এবং আলোর পথ দেখাবে। কোমলমতি এসব “ছোট্ট সেনামনি” একদিন মানবিকতা, সততা ও দেশপ্রেমে উজ্জ্বল নাগরিক হিসেবে দেশসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। কারণ সুশিক্ষিত ও মানবিক মানুষই পারে একটি সুন্দর সমাজ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। তিনি হিংগুল স্মৃতি ফাউন্ডেশনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
যাদের শুভ চিন্তা, দান ও সহযোগিতায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে আয়োজনে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতিও জানানো হয়েছে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
সমাজের কল্যাণে নিবেদিত এইসব ভালো কাজকে মহান আল্লাহ সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করুন— এমন প্রার্থনাই করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে। পাশাপাশি আশা করা হচ্ছে, হিংগুল স্মৃতি ফাউন্ডেশনের এই মহৎ উদ্যোগ একদিন গোপালগঞ্জের প্রতিটি স্কুলে, প্রতিটি ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়বে এবং আলোকিত মানুষ গড়ার এই যাত্রা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে।




