ধানের দাম নেই, শ্রমিকের মজুরি আকাশচুম্বী—হাওরের কৃষক এখন ঋণের ফাঁদে
ডেস্ক রিপোর্ট :
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান বাঁচাতে এখন মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন কৃষকেরা। কিন্তু ধানের দামের তুলনায় শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরি, নৌকা ভাড়া, মাড়াই ও পরিবহন খরচে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক নিবারণ দেবনাথ বলেন, “একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এক থেকে দেড় হাজার টাকা, অথচ ধানের মণ মাত্র ৭০০ টাকা। দুই মণ ধানের দামে একজন শ্রমিক পাওয়া যায়।”
কৃষকদের অভিযোগ, হাওরে প্রায় ৪০ শতাংশ ধান আগেই পানিতে নষ্ট হয়েছে। বাকি ধান কাটতেও দিতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। কোথাও কোথাও এক বিঘা ধান কাটতেই শ্রমিক মজুরি গুনতে হচ্ছে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তারপরও শ্রমিক সংকট তীব্র।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। জলাবদ্ধতায় প্রাথমিক হিসাবে ২০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা বলছেন, সরকার মণপ্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা দাম নির্ধারণ করলেও কৃষক সেই দাম পাচ্ছেন না। সিন্ডিকেট ও জটিল সরকারি নিয়মের কারণে প্রান্তিক কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করছেন।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ধান কাটতে পারেননি। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পচে নষ্ট হয়েছে।
হাওরের কৃষকদের আক্ষেপ—“এত কষ্ট করে চাষ করেও এবার ঘরে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে।”




