বিষাক্ত হচ্ছে ঢাকার বাতাস: দূষণে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রাজধানী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানী ঢাকা-র বাতাস দিন দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। বৃষ্টির অনুপস্থিতি, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় নগরবাসী এখন কার্যত বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। রবিবার সকালে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান IQAir-এর তথ্যমতে, সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ছিল ১৬৫, যা “সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর” বাতাসের নির্দেশক। আগের দিন যেখানে ঢাকার অবস্থান ছিল চতুর্থ, সেখানে একদিনের ব্যবধানে আরও অবনতি হয়েছে পরিস্থিতির।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ধানমন্ডি। সেখানে AQI স্কোর উঠেছে ১৭৪-এ। এছাড়া আগারগাঁও, বেচারাম দেউড়ি, গুলশান লেক পার্ক, বারিধারা, শ্যাওড়াপাড়া, উত্তর বাড্ডা ও গোড়ান এলাকাতেও বাতাসের মান অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার দূষণের প্রধান কারণ পিএম ২.৫ নামের অতিক্ষুদ্র বায়ুকণা। এই কণাগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে সহজেই ফুসফুসে ঢুকে রক্তের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসের জটিলতা ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়।
দূষণের জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজের ধুলা এবং আশপাশের ইটভাটাগুলোকে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পরিস্থিতি এখন নগরবাসীর জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
এদিন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল লাহোর। শহরটির AQI স্কোর ছিল ২০৭, যা “খুব অস্বাস্থ্যকর” পর্যায়ে পড়ে। তালিকার পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে দিল্লি, জাকার্তা এবং কাবুল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গৃহস্থালি ও পরিবেশগত বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ২০২৩ সালে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানিজনিত বায়ুদূষণ বছরে ৫২ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সবাইকে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নির্মাণস্থলে পানি ছিটানো, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, ধোঁয়া সৃষ্টি করা পুরোনো যানবাহন বন্ধ করা এবং বর্জ্য পোড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত বৃষ্টি না হলে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ঢাকার বাতাস আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।




