বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হবে গণমাধ্যম কমিশন: তথ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, সঠিকভাবে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা গেলে এটি ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, কোয়াসি-জুডিশিয়াল ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন দেশের গণমাধ্যম খাতের নানা সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫১ বছর পর সংবাদপত্রের কালো দিবসের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অতীতের সংকটের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে গণমাধ্যমের সংকট, সাংবাদিকতা পেশার অনিশ্চয়তা এবং সংবাদপত্রের কালো দিবসের বাস্তবতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আগের মতো না থাকলেও সাংবাদিকরা এখনও প্রত্যাশিত সম্মান, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত সন্তুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই আগামী ১৮ জুন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) প্রণয়নের খসড়া নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভায় মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি সিটিজেন জার্নালিজমের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও বাস্তবতার বিষয়টিও তুলে ধরেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সিটিজেন জার্নালিজমকে অস্বীকার করা সম্ভব নয়, আবার একে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করাও বাস্তবসম্মত নয়। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে এ খাতকে একটি নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গণমাধ্যম মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করবে, তাদের অবশ্যই প্রচলিত শ্রম ও কর্মসংস্থান আইন মেনে কর্মীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে কেবল মুনাফাভিত্তিক শিল্প নয়, বরং জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যম খাতে সৎ ও দায়িত্বশীল উদ্যোক্তাদের সরকার ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করবে। প্রয়োজন হলে তাঁদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




