অপরাধ কমেছে, জনআস্থা ফিরেছে পুলিশের প্রতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা সফলভাবে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পুলিশ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জনবান্ধব, সেবামুখী এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দেশব্যাপী আলোচিত তিনটি ঘটনায় বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই। তিনি বলেন, সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাসী। এই নীতির আওতায় পুলিশ সদস্যদের নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনসেবার মান বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং অনিয়মের জন্য জবাবদিহিতার ব্যবস্থা পুলিশ বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে উৎসাহিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। তাদের প্রতিবেদনে মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদন্ত বা যাচাইয়ের পরিবর্তে বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। ফলে ওই প্রতিবেদনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ সীমিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মামলা তদন্ত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পলাতক কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অনুকম্পা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। যেসব কর্মকর্তা আলোচনায় এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৫ পুলিশ সদস্য পেলেন বিশেষ সম্মাননা
অনুষ্ঠানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সনদপত্র ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এছাড়া তিনজন নৌ পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজে ভূষিত করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন, এসআই অহিদুজ্জামানসহ মিরপুর জোনের নয়জন কর্মকর্তা।
এছাড়া দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুত খালি করে অন্তত ৫০ জন যাত্রীর প্রাণরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য মাদারীপুরের চর জানাজাত ও কলাতলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোহাম্মদ আবুজার গিফারীসহ তিনজন নৌ পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
গজারিয়ার আলোচিত ক্লু-লেস কিশোরী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে ভূমিকা রাখার জন্য পিবিআই মুন্সীগঞ্জের এসআই রনি দেবনাথসহ আরও তিন কর্মকর্তাকেও পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




