প্রধানমন্ত্রী দুদকের সংস্কার ও পুনর্গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
দুদক কি সংস্কার হবে, নাকি শুধু সাইনবোর্ড বদলাবে?
দুর্নীতির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স”—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি বহু পুরোনো ও বহুল ব্যবহৃত একটি বাক্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুর্নীতি আজও রাষ্ট্রযন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আর সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য গঠিত প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন নিজেই দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নবিদ্ধ।
এমন প্রেক্ষাপটে Transparency International Bangladesh-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী দুদকের সংস্কার ও পুনর্গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন। শুনতে আশাব্যঞ্জক। কিন্তু জনগণের প্রশ্ন—এই সংস্কার কি বাস্তব হবে, নাকি আবারও কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে?
দুদকের সবচেয়ে বড় সংকট শুধু আইনের নয়, স্বাধীনতারও। রাজনৈতিক প্রভাব, বেছে বেছে অভিযান, বড় দুর্নীতিবাজদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা—এসব অভিযোগ বহুদিনের। সাধারণ মানুষ দেখেছে, ছোট কর্মকর্তা বা দুর্বলদের বিরুদ্ধে অভিযান দ্রুত হয়, কিন্তু রাঘববোয়ালদের ক্ষেত্রে রহস্যজনক নীরবতা কাজ করে।
প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন হতে চান, তাহলে দুদককে শুধু পুনর্গঠন নয়, কার্যকর স্বাধীনতা দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত, জবাবদিহি এবং উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া এই সংস্কার অর্থহীন হয়ে পড়বে।
২০২৮ সালের আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সম্মেলন বাংলাদেশে আয়োজনের চিন্তা নিঃসন্দেহে মর্যাদার বিষয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে দেশের মানুষ দেখতে চায়—দুর্নীতির বিরুদ্ধে সত্যিকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে কি না। কারণ, শুধু সম্মেলন আয়োজন করলে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় না; সুশাসন নিশ্চিত হলেই রাষ্ট্রের সম্মান বাড়ে।
এখন দেখার বিষয়, দুদকের সংস্কার কি সত্যিই দুর্নীতির ভিত কাঁপাবে, নাকি আবারও নতুন মোড়কে পুরোনো বাস্তবতার পুনরাবৃত্তি হবে।




