‘ভাই’ নয়, ‘মহোদয়’ বলতে হবে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন
ডেক্স রিপোর্ট :
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলামের সঙ্গে এক সাংবাদিকের টেলিফোনে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অডিওতে একজন সাংবাদিকের ‘ভাই’ সম্বোধনে আপত্তি জানিয়ে নিজেকে ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার কথা বলতে শোনা যায়। ঘটনাটি ঘিরে প্রশাসনিক শিষ্টাচার, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রটোকল এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ধরন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি বিষয়ে তথ্য জানতে সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে সাংবাদিক তাকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করলে তিনি তাতে আপত্তি জানান। অডিওতে শোনা যায়, তিনি বলেন সরকারি কর্মকর্তাদের ‘ভাই’ নয়, ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করা উচিত।
অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অডিওটি শেয়ার করে নেটিজেনরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে থাকেন। অনেকেই মনে করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ডা. নুরুল ইসলাম সম্মানজনক সম্বোধন প্রত্যাশা করতেই পারেন, তবে তা চাপিয়ে দেওয়া বা দাবি করার বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সম্মান আদায় করা যায় কাজ, আচরণ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে; সম্বোধন নির্ধারণ করে নয়।” অন্যদিকে আরেকজন মন্তব্য করেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি প্রটোকল অনুযায়ী সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। মহোদয় বলা অস্বাভাবিক কিছু নয়।”
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সাংবাদিকের মতে, মাঠপর্যায়ে কাজের সময় ‘ভাই’, ‘স্যার’ কিংবা ‘ডাক্তার সাহেব’ ধরনের সম্বোধন দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত এবং তা সাধারণত সৌজন্যবোধের অংশ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। তাদের মতে, তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার সম্পর্কই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে প্রশাসনিক সূত্রের কেউ কেউ বলছেন, সরকারি চিঠিপত্র, আনুষ্ঠানিক সভা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগে ‘মহোদয়’ সম্বোধন ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত বা অনানুষ্ঠানিক টেলিফোন আলাপে এমন সম্বোধন বাধ্যতামূলক কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ, জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা এবং নাগরিকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সময়ে জনগণের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং সেবামুখী মনোভাব প্রদর্শন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অডিওটির প্রেক্ষাপট, পুরো কথোপকথনের বিবরণ এবং তার অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিলেও সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগে সম্মান, শিষ্টাচার এবং পেশাগত আচরণের প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসে কি না।




