তিস্তা থেকে তাইওয়ান—চীনের পাশে বাংলাদেশ, ১০ দফা যৌথ বিবৃতিতে নতুন বার্তা
ডেস্ক রিপোর্ট :
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সরাসরি অংশগ্রহণের আহ্বান, ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের পুনর্ব্যক্ত সমর্থন এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে আরও গভীর সম্পৃক্ততার ঘোষণা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন মাত্রা উঠে এসেছে দুই দেশের ১০ দফার যৌথ বিবৃতিতে।
বেইজিং সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকের পর এ যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
যৌথ বিবৃতির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ চাওয়ার বিষয়টি। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা তিস্তা ইস্যুতে এবার প্রকাশ্য কূটনৈতিক বার্তায় চীনের সহযোগিতা চাওয়াকে বড় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ আবারও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সরকারই পুরো চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। এর বিপরীতে চীনও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, পানিসম্পদ ও শিল্প খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় উচ্চমানের প্রকল্প বাস্তবায়নেও দুই দেশ একমত হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যেতে তারা সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায়ও সমর্থন দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ১০ দফা যৌথ বিবৃতি শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের আরও গভীর কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করছে।




