ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযান: লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানা-স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সারাদেশে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার সকালে রবীন্দ্র সরোবর-এ ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিন পরপর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন, বাসাবাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের মতে চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ‘হেমোরেজিক ডেঙ্গু’ বা রক্তক্ষরণজনিত ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ ধরনের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শরীরে রক্তক্ষরণসহ জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যা জীবনহানির কারণও হতে পারে। তাই ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আব্দুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিটি করপোরেশনের জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩টি ওয়ার্ড বর্তমানে ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও সাধারণ জনগণকে সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ—এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের যেকোনো স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার করা হবে। এর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।




