রোদে স্বস্তি হাওরে, পানি কমায় ধান কাটায় গতি ও আশার আলো
নিজস্ব প্রতিবেদক :
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর হাওরাঞ্চলে দুদিন ধরে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। পানি কমতে থাকায় ধান কাটা ও শুকানোর কাজে গতি বেড়েছে। কৃষকেরা এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন—আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুতই ঘরে উঠবে অবশিষ্ট ফসল।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টি না থাকায় হাওরে ধান কাটা ও শুকানোর কাজ জোরদার হয়েছে। একই অবস্থা বজায় থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হাওরাঞ্চলের ধান কাটা শেষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সমতল এলাকার ধান কাটতে আরও কিছু সময় লাগবে।
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক কৃষক পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন। কোথাও নৌকার অভাবে কাটা ধান পলিথিনে মুড়িয়ে টেনে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাহিরপুরের কৃষক ইয়াহিয়া হাসান জানান, তার জমির বড় অংশ পানিতে ডুবে গেছে এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান নষ্ট হয়েছে। এখন যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তা কেটে ও শুকিয়ে অন্তত খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে চান।
সরকারি তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে মোট আবাদি জমির বড় অংশ হাওর এলাকায়। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান কাটা হলেও এখনো প্রায় ২৩ শতাংশ ধান কাটা বাকি রয়েছে। অন্যদিকে হাওরের বাইরে প্রায় ৬৬ শতাংশ ধান এখনো কাটার অপেক্ষায়।
হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ধান ডুবে নষ্ট হয়েছে, কোথাও রোদের অভাবে শুকানো যায়নি। তবে সাম্প্রতিক রোদে কৃষকেরা কাটা ধান ও খড় শুকানোর কাজ শুরু করেছেন। অনেক স্থানে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ধানই শুকিয়ে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা কম থাকায় পরিস্থিতি আরও উন্নতির দিকে যেতে পারে। তবে কিছু নদ-নদীর পানি এখনো বাড়ছে, যা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই অবশিষ্ট ধান ঘরে তোলা সম্ভব হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক আবহাওয়ার পরিবর্তনে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পুরো পরিস্থিতি এখনো নির্ভর করছে আগামী দিনের আবহাওয়ার ওপর।




