ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী

রোদে স্বস্তি হাওরে, পানি কমায় ধান কাটায় গতি ও আশার আলো

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর হাওরাঞ্চলে দুদিন ধরে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। পানি কমতে থাকায় ধান কাটা ও শুকানোর কাজে গতি বেড়েছে। কৃষকেরা এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন—আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুতই ঘরে উঠবে অবশিষ্ট ফসল।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টি না থাকায় হাওরে ধান কাটা ও শুকানোর কাজ জোরদার হয়েছে। একই অবস্থা বজায় থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হাওরাঞ্চলের ধান কাটা শেষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সমতল এলাকার ধান কাটতে আরও কিছু সময় লাগবে।
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক কৃষক পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন। কোথাও নৌকার অভাবে কাটা ধান পলিথিনে মুড়িয়ে টেনে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাহিরপুরের কৃষক ইয়াহিয়া হাসান জানান, তার জমির বড় অংশ পানিতে ডুবে গেছে এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান নষ্ট হয়েছে। এখন যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তা কেটে ও শুকিয়ে অন্তত খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে চান।
সরকারি তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে মোট আবাদি জমির বড় অংশ হাওর এলাকায়। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান কাটা হলেও এখনো প্রায় ২৩ শতাংশ ধান কাটা বাকি রয়েছে। অন্যদিকে হাওরের বাইরে প্রায় ৬৬ শতাংশ ধান এখনো কাটার অপেক্ষায়।
হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ধান ডুবে নষ্ট হয়েছে, কোথাও রোদের অভাবে শুকানো যায়নি। তবে সাম্প্রতিক রোদে কৃষকেরা কাটা ধান ও খড় শুকানোর কাজ শুরু করেছেন। অনেক স্থানে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ধানই শুকিয়ে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা কম থাকায় পরিস্থিতি আরও উন্নতির দিকে যেতে পারে। তবে কিছু নদ-নদীর পানি এখনো বাড়ছে, যা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই অবশিষ্ট ধান ঘরে তোলা সম্ভব হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক আবহাওয়ার পরিবর্তনে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পুরো পরিস্থিতি এখনো নির্ভর করছে আগামী দিনের আবহাওয়ার ওপর।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।