ব্রেকিং নিউজ
টানা তিন ম্যাচে তিনবারই ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস ভিনির তিন ম্যাচেই গোল : ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি? ৩২ মাস পর ব্রাজিল জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, হার্ড রকে উৎসব ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন; স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সম্মেলন: জলবায়ু ও বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকেরা ‘আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা’ যুবদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ২ হাজার ৩২৩ মামলা, শীর্ষে মিরপুর চীন সফরে তারেক রহমানের সফরে যোগ হচ্ছেন দুই মন্ত্রী শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীরা

টিকা সংকটে ভয়াল হাম! বাংলাদেশে মৃত্যুর মিছিল, সরকারি হিসাবেই ৫১২ প্রাণহানি

Gazi Tushar Ahamed বাংলাদেশ
AdvertisementAdvertisement


গাজী তুষার আহমেদ :

  দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ বিস্তার এখন রীতিমতো জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত হাম ও হাম-উপসর্গে মারা গেছে অন্তত ৫১২ জন,সূত্র বলছে মৃত্যু হাজারের কাছে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংক্রমণ কিছুটা কমলেও আগামী কয়েক সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার নেয়। বিশেষ করে ৪ থেকে ১০ মে সময়কে বিশেষজ্ঞরা হামের “পিক” বা সংক্রমণের চূড়ান্ত বিস্ফোরণকাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত শনাক্ত হাম রোগী ছিল ৭১০ জন। কিন্তু ৪ থেকে ১০ মে সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০৬ জনে। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে আক্রান্ত বেড়েছে ১১২ শতাংশ। একই সময়ে হাম-উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ২৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামে মৃত্যুও ১১৪ শতাংশ বেড়ে যায়।
২৩ মে পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৯৪ জনে। এছাড়া হাম-উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬২ হাজার ৫০০। সরকারি হিসাবে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৬ জনের এবং উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪২৬ জনের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। আক্রান্ত শিশুদের শরীরে এখন হাম-পরবর্তী জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ফলে সংক্রমণ কমলেও মৃত্যুর ঝুঁকি এখনও অত্যন্ত বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেছেন, শুরুতে অনেক পরিবার স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েছে। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ায় একসঙ্গে বহু রোগীর তথ্য সরকারি হিসাবে যুক্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাম ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ১০ থেকে ১৪ দিন পর শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়। ফলে রোগী শনাক্তে বিলম্ব হওয়ায় বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সময়মতো রোগীকে আলাদা না রাখা, চিকিৎসায় দেরি এবং সমন্বিত ব্যবস্থার অভাবে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তার মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই অধিকাংশ রোগীকে সামলানো সম্ভব ছিল। কিন্তু দুর্বল স্তরভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থার কারণে চাপ গিয়ে পড়ে বড় হাসপাতালগুলোতে।
সরকার বলছে, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে, সময়মতো পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ ও কার্যকর প্রস্তুতি না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়েছে।
এখন জনমনে বড় প্রশ্ন—যে হাম একসময় নিয়ন্ত্রণে ছিল, তা আবার কেন ভয়াবহ রূপ নিল? বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো অতি সংক্রামক রোগ ঠেকাতে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তকে আইসোলেশনে রাখা এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় সমাধান।

AdvertisementAdvertisement

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।