সালাম মুর্শেদীকে ৩ মাসের মধ্যে দখল করা বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার অভিজাত গুলশান-২ এলাকার একটি বহুল আলোচিত বাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্কে চূড়ান্ত রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। রায়ে বাড়িটিকে সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও সাবেক সংসদ সদস্য Abdus Salam Murshedy-কে তিন মাসের মধ্যে দখল হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের তালিকাভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের চেষ্টা হলেও আইনগতভাবে ওই সম্পত্তির অবমুক্তি না হওয়ায় এসব হস্তান্তর বৈধ হয়নি। ফলে সম্পত্তিটির প্রকৃত মালিকানা রাষ্ট্রের অধীনেই থেকে গেছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।
রায়ে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে দলিল, নামজারি ও দখল-সংক্রান্ত নথির মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলেও এসব প্রক্রিয়ায় অসংগতি পাওয়া গেছে। আদালতের মতে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির মর্যাদা বহাল থাকবে।
মামলাটির সূত্রপাত ঘটে ২০২২ সালে একটি রিট আবেদনের মাধ্যমে। আবেদনকারী পক্ষ অভিযোগ করেন, পরিত্যক্ত সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এরপর আদালত নথিপত্র তলব করে এবং বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয় Anti-Corruption Commission (Bangladesh)-কে।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে মালিকানা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতায় একাধিক অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিষয় উঠে আসে বলে জানা যায়। তদন্ত শেষে আদালত সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা ইতিহাস যাচাই করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে।
রায়ে আদালত নির্দেশ দেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। পাশাপাশি দখল বুঝে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সচিবকে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত অব্যাহত রাখতে দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জালিয়াতি বা অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সালাম মুর্শেদীর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তিনি ১৯৯৭ সালে রাজউকের অনুমতি নিয়ে সম্পত্তিটি বৈধভাবে ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছেন। তারা জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।
এই রায়ের মাধ্যমে গুলশানের বহুল আলোচিত ওই বাড়িকে ঘিরে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। এখন নজর থাকবে আপিল প্রক্রিয়া এবং তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে।




